হরমুজ প্রণালি এখনও অবরুদ্ধ, উত্তেজনা চরমে
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার সময়সীমা বেঁধে দিয়েও তা বাড়িয়ে চলেছেন। সর্বশেষ ২৬ মার্চ তিনি নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন ৬ এপ্রিল। এর আগে তিনি ২৩ মার্চ এবং তারপর ২৭ মার্চকে সময়সীমা হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ইরান প্রণালিতে মার্কিন-মিত্র দেশের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে এবং ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠছে।
পেন্টাগন এখন ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাতের অংশ হিসেবে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে হাজার হাজার অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাম্প ২৪ মার্চ দাবি করেন যে ইরান একটি মূল্যবান প্রস্তাব দিয়েছে এবং ঘোষণা করেন, “আমরা এই যুদ্ধ জিতে নিয়েছি।” তবে ইরান বলছে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও সমপরিমাণ তরলীভূত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হয়। প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন মধ্যপ্রাচ্যীয় বন্দর ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত করেছে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দর, যা বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত কন্টেইনার বন্দর, বায়বীয় আক্রমণ প্রতিরোধের পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ২৩ মার্চ পার্লামেন্টে ভাষণ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র সম্প্রসারণকে “সঠিক” সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন। ইরান সংকটের সঙ্গে এই উস্কানি বৈশ্বিক নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও জটিল করে তুলছে। ট্রাম্প বলেছেন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার সিদ্ধান্ত এখনও বিবেচনাধীন। ৬ এপ্রিলের সময়সীমার আগে ইরান কোনো সাড়া না দিলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















