রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় সবচেয়ে বড় আঘাত
ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের বন্দর ও তেল শোধনাগারগুলোতে আঘাত হেনেছে। হামলায় সৃষ্ট বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী ফিনল্যান্ড থেকেও দেখা গেছে। এই আক্রমণ রাশিয়ার আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ বিঘ্নের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় রাশিয়ার বাল্টিক সমুদ্র পথে তেল রপ্তানির কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে। এই ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে একটি নতুন ধাক্কা দিয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ সংকট ইতোমধ্যে তেলের দাম চাপে ফেলেছে।
রাশিয়া বাল্টিক সমুদ্র দিয়ে ইউরোপের বাজারে তেল পাঠায়। এই পথ রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধমনি। ইউক্রেনের এই হামলা সেই ধমনিতে সরাসরি আঘাত করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, পেন্টাগন ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত কিছু অস্ত্র, বিশেষত বায়ু প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতায় সরাসরি প্রভাব পড়বে এবং কিয়েভের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে হোয়াইট হাউস ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে আসার শর্তের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছে। রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ডনবাস ছেড়ে দেওয়ার ধারণাটি সামনে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন এটি রুশ পক্ষের চাপের ফল।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাশিয়ার তথাকথিত ছায়া বহরের জাহাজ আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও সুইডেনের পর ব্রিটেনও এই পদক্ষেপে যোগ দিচ্ছে। মস্কো এই সিদ্ধান্তকে শত্রুতামূলক আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। ব্রিটিশ সেনাপ্রধান রোল্যান্ড ওয়াকার সতর্ক করেছেন যে যুক্তরাজ্য এখন রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের অপরিহার্য পথে এগোচ্ছে এবং সরকারকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















