সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা বৃহত্তম দল, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেত্তে ফ্রেদেরিকসেন আকস্মিকভাবে সংসদীয় নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং সেই রাজনৈতিক মুহূর্তকে কাজে লাগাতেই এই সিদ্ধান্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা ডেনমার্কে ব্যাপক জাতীয় ঐক্য তৈরি করেছে। ফ্রেদেরিকসেন সেই ঐক্যের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে নিজেকে জাতীয় স্বার্থের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

নির্বাচনের ফলাফলে ফ্রেদেরিকসেনের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দল বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, ফলে সরকার গঠন জটিল হয়ে পড়েছে। এই নির্বাচন ইউরোপের বড় ছবির সঙ্গেও মিলে যায়। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্ক এখন যে টানাপড়েনের মধ্যে রয়েছে, তাতে ছোট দেশগুলোও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জোরালো অবস্থান নিতে শুরু করেছে। ডেনমার্কের এই নির্বাচন সেই বৃহত্তর ধারারই একটি প্রতিফলন।
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নটি কেবল ডেনমার্কের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি এখন ন্যাটো জোটের মধ্যে উত্তেজনার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান প্রভাব বলয় বাড়ানোর যে কৌশল নিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড তার অংশ। আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব বিপুল। এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের অবস্থান ইউরোপীয় সহযোগীদের কাছে স্বাধীনতার একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ফ্রেদেরিকসেনের নির্বাচনী হিসাব কতটা কাজে লাগবে তা নির্ভর করছে সরকার গঠনের আলোচনায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তাঁকে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে, যা নীতি প্রণয়নে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের এই ফলাফল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ডেনমার্কের ভোটাররা জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস চান না। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন চাপ যতদিন থাকবে, এই ইস্যু ডেনিশ রাজনীতির কেন্দ্রে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















