মধ্যরাতের হামলায় আতঙ্কিত ইসরায়েল
২৮ মার্চ রাতে তেল আবিবে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনে একজন নিহত এবং কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এর আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য শনাক্ত করে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে শহরে আঘাত হানে। সংবাদমাধ্যমের দলগুলো তেল আবিবের আকাশে ক্লাস্টার মিউনিশন বিস্ফোরিত হতে দেখেছে। ক্লাস্টার অস্ত্র একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়া বহু ক্ষুদ্র বোমা ছেড়ে দেয়, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে বেসামরিক এলাকায় ব্যবহার নিষিদ্ধ।

তেল আবিবে এই হামলা ইরান যুদ্ধে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরছে। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ইরান ইসরায়েলের শহরাঞ্চলে ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই অস্ত্রের ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলছে। ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড বলেছে নতুন ভবনের সুরক্ষিত কক্ষ হামলা থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নাগরিকদের সেখানে আশ্রয় নিতে অনুরোধ করেছে। ইরানের হামলায় এ পর্যন্ত ইসরায়েলে ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং পাঁচ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।
এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বন্ধ না করলে হামলা আরও তীব্র ও বিস্তৃত করা হবে। একই রাতে ইসরায়েলি বাহিনী তেহরানজুড়ে “ইরানি শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে” রাতের বিমান হামলা পরিচালনা করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার এই চক্র থামার কোনো লক্ষণ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।

যুদ্ধের ২৮তম দিনে এসে ইরানের হামলার ক্ষমতা কিছুটা কমলেও একেবারে থামেনি। যুদ্ধের প্রথম দিকের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের হার ৯০ শতাংশ কমেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন। তবে ইরান এখন বাকি মজুত সংরক্ষণ করে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কৌশল নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ৬ এপ্রিলের ট্রাম্পের নতুন সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। সেই তারিখের আগে কোনো কূটনৈতিক সমাধান না হলে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















