উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্রমাগত নিশানায়
ইরানি আক্রমণে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। কোনো সেনা নিহত হননি। আহতদের মধ্যে দুজনের শ্র্যাপনেলের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। তবে অন্য কয়েকজন সেনার ঠিক কী ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। হামলায় একটি রিফুয়েলার ট্যাংকার বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস সৌদি আরবের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং ইরান যুদ্ধে মার্কিন বিমান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানে হামলায় অংশ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হয়। ইরান শুরু থেকেই জানিয়েছিল যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এই প্রতিশ্রুতি মেনেই তারা বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদরদপ্তরে বহুবার হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের ঘাঁটিতে এই হামলা সেই ধারার আরেকটি পদক্ষেপ।

ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে সেন্টকম জানিয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন একটি রিফুয়েলার বিমান দুর্ঘটনায় ইরাকে মারা যান। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতেও মার্কিন মিত্রদের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মোট ৩০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় অংশ এশিয়া থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক।
সৌদি আরব নিজেও একাধিকবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদের একটি তেল শোধনাগারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনা এর আগে রিপোর্ট হয়েছে। সৌদির বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে সব হামলা ঠেকানো যায়নি। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো কূটনৈতিক সমাধানের জন্য মরিয়া হয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে, কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা উভয়ই হুমকিতে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















