দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে অপরিশোধিত তেলের মজুত দ্রুত কমে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে মাত্র ৪০ হাজার টন ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত এই পরিশোধনাগার প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার হাজার টন তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রাখলেও বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টন হারে উৎপাদন চলছে। এখান থেকে উৎপাদিত জ্বালানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংকটের পেছনে হরমুজ প্রণালির প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। ফলে এই পথ বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান কিছু নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিলেও সামগ্রিকভাবে ঝুঁকি কমেনি। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ এই বিশেষ অনুমতির আওতায় থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

আটকে থাকা জাহাজ, বাতিল শিডিউল
ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত এক লাখ টন তেলবাহী একটি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়েও এটি রওনা দিতে পারেনি।
একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আরেকটি তেলবাহী জাহাজের যাত্রাও বাতিল হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন তেল সরবরাহ সম্ভব হয়নি, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
নতুন চালানের আশায় অপেক্ষা
আগামী ২১ এপ্রিল সৌদি আরব থেকে নতুন করে এক লাখ টন তেল লোড করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এই চালান এলে তা মে মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে সেটিও বিকল্প রুটে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মালয়েশিয়া ও নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে নতুন উৎস থেকে তেল আনতে সময় লাগবে, ফলে স্বল্পমেয়াদে সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্ধের আশঙ্কা বাড়ছে
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত নতুন তেল না এলে দেশের একমাত্র এই পরিশোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















