০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাটে ব্যাপক ক্ষতি, ঘরহারা শতাধিক পরিবার আলমডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, নারীসহ ৬ জন গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইয়েমেনের হামলায় উত্তেজনা চরমে, বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা চীনের শিক্ষাগুরু ঝ্যাং শুয়েফেংয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে আলোড়ন, স্বপ্ন বনাম বাস্তবতার নতুন প্রশ্ন ডলারের ঝড়ে এশিয়ার অর্থনীতি চাপে, তেলের দাম বাড়ায় দ্বিমুখী সংকট কিউবায় জ্বালানি অবরোধে ভেঙে পড়ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বাড়ছে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু এলপিজি সংকটে নতুন কৌশল, দূর দেশ থেকে জ্বালানি টানছে ভারত—ইরানেও ফিরল ক্রয় ইরান যুদ্ধ থামাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর দাবি, আলোচনায় না থাকলে সমাধান অসম্ভব আলজিয়ার্সে বাংলাদেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন, শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা সস্তা ড্রোনেই থামছে না যুদ্ধ: উপসাগরে ইরানের ছায়া আরও গভীর

বৈদ্যুতিক বাসে রূপান্তর, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন এপিএসআরটিসি কর্মীরা

ডিজেলচালিত বাসের বদলে বৈদ্যুতিক বাস চালুর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন সংস্থা। তবে এই পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ডিপো রূপান্তর ও কর্মীদের অনিশ্চয়তা
বিজয়ওয়াড়ার বিদ্যাধরপুরম ডিপোতে হঠাৎই নোটিশ জারি করে জানানো হয়, সেটিকে বৈদ্যুতিক বাস ডিপোতে রূপান্তর করা হবে। ফলে কর্মীদের অন্যত্র বদলির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার কারণে দূরের ডিপোতে বদলি হলে সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

পরিবহন আধুনিকীকরণ ও অবকাঠামো পরিবর্তন
সরকার ধাপে ধাপে বিদ্যমান ডিপোগুলোকে বৈদ্যুতিক বাস উপযোগী করে তুলতে চায়। এর জন্য চার্জিং স্টেশন, উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

বেসরকারি অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক
কর্মীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো গ্রস কস্ট কনট্রাক্ট মডেল। এই ব্যবস্থায় বেসরকারি সংস্থাগুলো বাস সরবরাহ ও পরিচালনা করবে, এবং নিজেদের চালক ব্যবহার করবে। ফলে সরকারি কর্মীদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলো বলছে, তারা বৈদ্যুতিক বাসের বিরোধী নয়, তবে পরিচালনা যেন সংস্থার মাধ্যমেই হয়।

আর্থিক চাপ ও সরকারের পরিকল্পনা
বৈদ্যুতিক বাস কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ডিজেল বাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণে বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ১,০৫০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮৭৫টির জন্য ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসে প্রথম চালান আসবে এবং মার্চের মধ্যে সব বাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Andhra Pradesh electric bus: APSRTC's electric push has staff worried - The  Hindu

চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে ভয়
দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা চালক ও কন্ডাক্টরদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতার মূল্য কমে যেতে পারে। অনেকেই বলছেন, অবিলম্বে চাকরি না গেলেও ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ কমে যাবে, পদোন্নতি বন্ধ হতে পারে এবং নতুন নিয়োগ কমে যাবে।

প্রতিবাদ ও দাবি
কর্মী সংগঠনগুলো গত ৪৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ডিপোগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে না দিয়ে সরকার যেন আর্থিক সহায়তা দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনা করে।

মাঠপর্যায়ে পরিবর্তনের প্রভাব
ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক বাস চালু হয়েছে যেখানে কন্ডাক্টর ছাড়াই টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ডিপো থেকে কর্মীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

স্ট্রি শক্তি প্রকল্পের প্রভাব
নারীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা চালুর পর যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বাস ও কর্মী সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে কাজ করা কন্ডাক্টরদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

সামাজিক প্রভাব ও সুবিধা
এই প্রকল্প সাধারণ নারী যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। অনেকেই এখন বিনা খরচে ব্যবসা বা প্রয়োজনীয় কাজে বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে পারছেন। এতে তাদের সঞ্চয় বাড়ছে এবং জীবিকা নির্বাহ সহজ হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার দ্রুত বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য একাধিক মডেল একসঙ্গে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যে কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিলাবৃষ্টিতে লালমনিরহাটে ব্যাপক ক্ষতি, ঘরহারা শতাধিক পরিবার

বৈদ্যুতিক বাসে রূপান্তর, চাকরি হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন এপিএসআরটিসি কর্মীরা

০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ডিজেলচালিত বাসের বদলে বৈদ্যুতিক বাস চালুর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য সড়ক পরিবহন সংস্থা। তবে এই পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

ডিপো রূপান্তর ও কর্মীদের অনিশ্চয়তা
বিজয়ওয়াড়ার বিদ্যাধরপুরম ডিপোতে হঠাৎই নোটিশ জারি করে জানানো হয়, সেটিকে বৈদ্যুতিক বাস ডিপোতে রূপান্তর করা হবে। ফলে কর্মীদের অন্যত্র বদলির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং বয়স্ক সদস্যদের দেখাশোনার কারণে দূরের ডিপোতে বদলি হলে সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

পরিবহন আধুনিকীকরণ ও অবকাঠামো পরিবর্তন
সরকার ধাপে ধাপে বিদ্যমান ডিপোগুলোকে বৈদ্যুতিক বাস উপযোগী করে তুলতে চায়। এর জন্য চার্জিং স্টেশন, উন্নত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রায় ৪০ হাজার কর্মীর ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।

বেসরকারি অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক
কর্মীদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হলো গ্রস কস্ট কনট্রাক্ট মডেল। এই ব্যবস্থায় বেসরকারি সংস্থাগুলো বাস সরবরাহ ও পরিচালনা করবে, এবং নিজেদের চালক ব্যবহার করবে। ফলে সরকারি কর্মীদের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কর্মী সংগঠনগুলো বলছে, তারা বৈদ্যুতিক বাসের বিরোধী নয়, তবে পরিচালনা যেন সংস্থার মাধ্যমেই হয়।

আর্থিক চাপ ও সরকারের পরিকল্পনা
বৈদ্যুতিক বাস কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ডিজেল বাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণে বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ১,০৫০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ৮৭৫টির জন্য ইতিমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। জুন মাসে প্রথম চালান আসবে এবং মার্চের মধ্যে সব বাস সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Andhra Pradesh electric bus: APSRTC's electric push has staff worried - The  Hindu

চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে ভয়
দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা চালক ও কন্ডাক্টরদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, নতুন প্রযুক্তি চালুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতার মূল্য কমে যেতে পারে। অনেকেই বলছেন, অবিলম্বে চাকরি না গেলেও ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ কমে যাবে, পদোন্নতি বন্ধ হতে পারে এবং নতুন নিয়োগ কমে যাবে।

প্রতিবাদ ও দাবি
কর্মী সংগঠনগুলো গত ৪৫ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ডিপোগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে না দিয়ে সরকার যেন আর্থিক সহায়তা দিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনা করে।

মাঠপর্যায়ে পরিবর্তনের প্রভাব
ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক বাস চালু হয়েছে যেখানে কন্ডাক্টর ছাড়াই টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ডিপো থেকে কর্মীদের অন্যত্র স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

স্ট্রি শক্তি প্রকল্পের প্রভাব
নারীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা চালুর পর যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে বাস ও কর্মী সংকট আরও প্রকট হয়েছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে কাজ করা কন্ডাক্টরদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।

সামাজিক প্রভাব ও সুবিধা
এই প্রকল্প সাধারণ নারী যাত্রীদের জন্য বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। অনেকেই এখন বিনা খরচে ব্যবসা বা প্রয়োজনীয় কাজে বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে পারছেন। এতে তাদের সঞ্চয় বাড়ছে এবং জীবিকা নির্বাহ সহজ হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সরকার দ্রুত বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য একাধিক মডেল একসঙ্গে প্রয়োগ করার পরিকল্পনা করছে। তবে এই পরিবর্তনের মধ্যে কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।