মার্কিন রাজনীতির ভেতরে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, আর সেই প্রশ্ন এখন শুধু বিরোধী শিবিরেই সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে গভীর উদ্বেগ ও দ্বিধা।
যুদ্ধের কৌশল নিয়ে অনিশ্চয়তা
গোপন সামরিক ব্রিফিংয়ের পর কংগ্রেসের একাধিক সদস্য প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, যুদ্ধের সুস্পষ্ট কৌশল ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়নি। তারা বলছেন, এত বড় সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত হওয়া উচিত ছিল।
অনেকেই মনে করছেন, তিন সপ্তাহ পার হলেও এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তার কোনো পরিষ্কার দিকনির্দেশনা নেই। এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

রিপাবলিকানদের ভেতরের দ্বিধা
প্রথমদিকে যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা আপত্তি না থাকলেও এখন রিপাবলিকানদের মধ্যেই বিরোধিতার সুর শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিরোধিতা অনেক ক্ষেত্রেই পর্দার আড়ালে সীমাবদ্ধ।
অনেক আইনপ্রণেতা ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে দ্বিধা করছেন। ফলে রাজনৈতিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত মতের মধ্যে এক ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে।
স্থল অভিযান নিয়ে আশঙ্কা
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন, যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানে স্থল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে? অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই সম্ভাবনা অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে, যদিও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
জনমতও এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে নয়। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, খুব কম সংখ্যক মানুষ ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান সমর্থন করছেন।
দ্রুত সমাধান চাইছেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হোক, তা চান না বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
তবে একই সময়ে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে অনেকে মনে করছেন, যুদ্ধের পরিসর বরং বাড়তে পারে।

দীর্ঘ যুদ্ধের ইঙ্গিত
পেন্টাগনের বিপুল অর্থের বাজেট চাওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এটি স্বল্পমেয়াদি অভিযান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি হতে পারে।
ইতিহাস বলছে, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় পরাজয় এড়াতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই পুরনো ধারা পুনরাবৃত্তির দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
বর্তমান পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই যুদ্ধবিরোধী অংশ শক্তিশালী হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কম দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দ্বিধা ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















