দুবাই: ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করছে যুক্তরাষ্ট্র—যার মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলের জন্য হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা এই সংঘাতকে আরও বড় মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি, তবুও ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। এতে করে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সংঘাত কি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে?
পেন্টাগনের প্রস্তুতি: সীমিত স্থল অভিযান
পেন্টাগন সীমিত আকারের স্থল অভিযানের বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে কয়েক হাজার সেনা অংশ নিতে পারে এবং মূল লক্ষ্য থাকবে উপকূলীয় হামলা ও দ্বীপ দখল। সময়সীমা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে—কেউ বলছেন কয়েক সপ্তাহ, আবার কেউ বলছেন কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে এখনো ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
কী ধরনের অভিযান হতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিকল্পনাগুলো পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর্যায়ে না গেলেও শুধুমাত্র প্রতীকী পদক্ষেপের চেয়ে অনেক বড়।
পরিকল্পনায় রয়েছে বিশেষ বাহিনী ও নিয়মিত পদাতিক সেনা মোতায়েন, দীর্ঘমেয়াদি উপকূলীয় হামলা এবং কৌশলগত অবস্থান দখল ও ধরে রাখা। সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্য ইরানের দক্ষিণ উপকূল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশপাশের এলাকা—যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
মেরিন বাহিনীর অগ্রগতি
উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি বাড়ানো।
প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও নৌসেনা সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন রয়েছে। অতিরিক্ত বাহিনী, যেমন ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। প্রয়োজনে আরও প্রায় ১০ হাজার সেনা পাঠানো হতে পারে।
মেরিন বাহিনী সাধারণত দ্রুত উপকূলীয় হামলা চালানো এবং দখলকৃত এলাকা ধরে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, যেকোনো অভিযান ইরানের উপকূল থেকেই শুরু হতে পারে।
খারগ দ্বীপে নজর
সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম খারগ দ্বীপ, যেখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও দ্বীপটির সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, তবে তেল স্থাপনাগুলো এড়িয়ে গেছে।
এই দ্বীপ দখল করা হলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত লাগতে পারে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং তেহরানের ওপর চাপ বাড়বে। তবে এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিও অনেক বেশি।
ঝুঁকি কেন বেশি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সীমিত আকারের স্থল অভিযানও দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এই সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
বিশেষ করে ছোট দ্বীপ দখল করে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে, কারণ সেখানে মার্কিন সেনারা ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত এবং দীর্ঘস্থায়ী গোলাবর্ষণের ঝুঁকিতে থাকবে।
এ কারণে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এলাকা দখলের পরিবর্তে ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে এ ধরনের হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি শক্তিশালী স্থাপনায় ভারী বোমা ব্যবহার করে আঘাত হানার ঘটনাও রয়েছে।
তাহলে কি স্থলযুদ্ধ আসন্ন?
এখনই নয়—তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।
পরিকল্পনা এগিয়ে চলছে, সেনা মোতায়েন বাড়ছে এবং সামরিক বিকল্প বিস্তৃত হচ্ছে।
ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, “দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নাও… খুব দেরি হওয়ার আগেই।” তিনি আরও বলেন, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে “ফিরে যাওয়ার আর কোনো পথ থাকবে না।”
সারসংক্ষেপ
এটি আর শুধু আকাশ ও নৌ অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে মাটিতে সেনা নামিয়ে—বিশেষ করে মেরিন বাহিনীর মাধ্যমে—হরমুজ প্রণালীর আশপাশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল ও নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নির্ভর করছে একটি বিষয়ের ওপর—কূটনীতি কি দ্রুত ফল দেবে, নাকি সংঘাত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে?
স্টিফেন এন. আর. 



















