০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ আখচাষিদের বকেয়া ৩২ গুণ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা আটকে—চাপ বাড়ছে কৃষকের জীবনে উত্তরাখণ্ডে ভাঙন, ছয় নেতা বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ৮ জেলায় তেল সংকট: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে জ্বালানি সরবরাহ থমকে গেছে জনসংখ্যা বদল থামাতে বিজেপিই শেষ ভরসা, তৃণমূলকে ঘিরে শাহের বিস্ফোরক চার্জশিট থাইল্যান্ডে নতুন জীবন খুঁজছেন মিয়ানমারের লাখো মানুষ, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের লড়াই তীব্রতর ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে? চীনের রাজনীতিতে জিয়াং শেংনানের দৃপ্ত কণ্ঠ, নারীর অধিকারের নতুন অধ্যায় শুরু ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিনের ৬ দিনের নতুন রিমান্ড মমতার তোপে বিজেপি: বাংলা ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ, ভোটের আগে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে?

বিশ্ব যখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অভিঘাতে কাঁপছে, তখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের তাইওয়ান আক্রমণের পরিকল্পনা নেই—যা কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

২০২৭ নয়, আশঙ্কা বাড়ছে পরবর্তী সময়ে

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নতুন মূল্যায়নে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি সরাসরি হামলার সময়সীমা নয়, বরং সামরিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য।

তবু বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত ঝুঁকি বাড়তে পারে ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের নির্বাচন, এবং শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত করে তুলেছে। ফলে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সামরিক সম্পদ সরানো হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুতি ও সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দুর্বল বা বিভ্রান্ত অবস্থায় পড়ে, তাহলে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা এখনও কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

Does the Iran war increase the risk of a Chinese attack on Taiwan? | Mint

সামরিক বাস্তবতা: এখনও প্রস্তুত নয় চীন

চীন নিয়মিত মহড়া চালালেও পূর্ণমাত্রার সমুদ্রপথে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা এখনও সীমিত। দ্রুত ও কম ক্ষয়ক্ষতিতে তাইওয়ান দখল করা এখনো তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারবে, যা চীনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি তাইওয়ানে চীনের বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানও চীনের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামনে বিপজ্জনক সময়

যদিও তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সম্ভাবনা কম, তবুও চীন ইতোমধ্যে তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়া ও আকাশসীমা লঙ্ঘন বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ সরাসরি সংঘাত বাড়াচ্ছে না, কিন্তু বিশ্বশক্তির ভারসাম্য বদলে দিয়ে তাইওয়ান সংকটকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ

ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে?

০৮:০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব যখন ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অভিঘাতে কাঁপছে, তখন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রশ্ন। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মধ্যে চীনের তাইওয়ান আক্রমণের পরিকল্পনা নেই—যা কিছুটা স্বস্তি দিলেও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

২০২৭ নয়, আশঙ্কা বাড়ছে পরবর্তী সময়ে

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৭ সালের মধ্যে তাইওয়ান দখলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে নতুন মূল্যায়নে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি সরাসরি হামলার সময়সীমা নয়, বরং সামরিক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য।

তবু বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত ঝুঁকি বাড়তে পারে ২০২৮ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে। এই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের নির্বাচন, এবং শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক ফ্রন্টে ব্যস্ত করে তুলেছে। ফলে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সামরিক সম্পদ সরানো হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুতি ও সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি দুর্বল বা বিভ্রান্ত অবস্থায় পড়ে, তাহলে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিক হামলার সম্ভাবনা এখনও কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

Does the Iran war increase the risk of a Chinese attack on Taiwan? | Mint

সামরিক বাস্তবতা: এখনও প্রস্তুত নয় চীন

চীন নিয়মিত মহড়া চালালেও পূর্ণমাত্রার সমুদ্রপথে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা এখনও সীমিত। দ্রুত ও কম ক্ষয়ক্ষতিতে তাইওয়ান দখল করা এখনো তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধ হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করতে পারবে, যা চীনের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক সমীকরণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। যদি তাইওয়ানে চীনের বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানও চীনের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামনে বিপজ্জনক সময়

যদিও তাৎক্ষণিক যুদ্ধের সম্ভাবনা কম, তবুও চীন ইতোমধ্যে তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়া ও আকাশসীমা লঙ্ঘন বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ সরাসরি সংঘাত বাড়াচ্ছে না, কিন্তু বিশ্বশক্তির ভারসাম্য বদলে দিয়ে তাইওয়ান সংকটকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে।