রংপুর বিভাগের অন্তত ৮ জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াতে শুরু করেছে।
কর্মবিরতির সূচনা
রোববার সকাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের এই কর্মসূচিতে একাত্মতা জানিয়েছে পেট্রল পাম্প মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্টরা। ফলে একযোগে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
ঘটনার পেছনের কারণ
এর আগে শনিবার রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে একটি ট্যাংকলরি নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রেলগেট এলাকায় গাড়িটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে চালক ও সহকারী সেটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। তখন রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িটি দেখে সন্দেহ হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের।
পরে তল্লাশি চালিয়ে একটি জেরিকেন থেকে ১৩ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
শ্রমিকদের ক্ষোভ ও দাবি
এই ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তারা দ্রুত এই শাস্তি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।
জনজীবনে প্রভাব
হঠাৎ করে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিকাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















