পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর বিস্ফোরক অভিযোগে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, বেআইনি অনুপ্রবেশ, নারী নিরাপত্তা, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে রাজ্য এখন চরম সংকটে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি বদলাতে একমাত্র সক্ষম ভারতীয় জনতা পার্টি।
অনুপ্রবেশ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ
শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ অভিযোগ করেন, সীমান্ত দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশ এখন জাতীয় নিরাপত্তার বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, তুষ্টিকরণ ও ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে এই সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ।
সীমান্তে বেড়া ও কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি
শাহ জানান, রাজ্যে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও অরক্ষিত রয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়া হবে এবং অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে বহিষ্কারের কথাও বলেন তিনি।
জনসংখ্যা পরিবর্তনের অভিযোগ
অমিত শাহের অভিযোগ, অনুপ্রবেশের ফলে কৃত্রিমভাবে জনসংখ্যার গঠন বদলে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে। তাঁর দাবি, এই পরিবর্তন থামাতে হলে রাজনৈতিক পরিবর্তন অপরিহার্য।
মমতার বিরুদ্ধে ‘ভিকটিম কার্ড’ রাজনীতির অভিযোগ
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে নিশানা করে শাহ বলেন, তিনি বারবার ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন। কখনও নিজের আঘাতের প্রসঙ্গ, কখনও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ—এই কৌশল এখন সাধারণ মানুষ বুঝে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাল্টা তৃণমূলের জবাব
অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকায়। তাদের বক্তব্য, অনুপ্রবেশ রোধ ও অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করার দায়িত্ব কেন্দ্রের, সেখানে ব্যর্থতা ঢাকতেই এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, রাজ্যে আসামের মতো আটক শিবির মডেল চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















