ভোটের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী মঞ্চ থেকে তিনি সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্য দখল ও ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।
রাজ্য দখলের অভিযোগে সরব মমতা
একাধিক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে লুট করতে এবং রাজ্যের স্বতন্ত্র পরিচয় মুছে ফেলতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলে দেওয়া, জমি কেড়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক কাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। তিনি সতর্ক করেন, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বাংলার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে।
মুর্শিদাবাদের সংঘর্ষ ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা
রামনবমী উপলক্ষে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর প্রশাসনের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ কমে গেছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে অধিকাংশ আধিকারিক বদলি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর হাতে নেই বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের কাউকেই ছাড়া হবে না, সময়মতো সকলকে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বড় সংখ্যায় নির্দিষ্টভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানতে চান, যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা কীভাবে প্রতিকার পাবেন যদি সম্পূরক তালিকা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ না করা হয়। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটারদের লক্ষ্য করে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, লক্ষাধিক ভোটারের নাম এখনও চূড়ান্ত নয়, যা ভোটের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিজেপিকে হারানোর ডাক
একইদিনে অন্য এক সভায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, বিজেপির আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে। তাঁর দাবি, যেখানে বিজেপি জেতে, সেখানে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভোটের লড়াইয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই তীব্র হচ্ছে। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং প্রশাসনিক বিতর্কের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিক নির্ধারণ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















