ঢাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভয়ংকর এক প্রতারণা চক্রের কার্যক্রমের সন্ধান মিলেছে। শীর্ষ সরকারি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
কীভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্ত
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৩ বছর বয়সী মো. রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যা পরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে।

ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার জাল
তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফেসবুকে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে আসছিল। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছিল।
জব্দ করা মোবাইল বিশ্লেষণে “ডাক্তার আয়েশা খাতুন” নামে একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া যায়, যা সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হচ্ছিল। ওই অ্যাকাউন্টে পুলিশ প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারোক্তি
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত রিপন তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সহযোগীদের নিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনি ব্যবস্থা ও সতর্কতা
এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার না হন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















