ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ দূরত্ব, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এবং উচ্চ চিকিৎসা খরচ—সব মিলিয়ে বহু মানুষ অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।
সময়ই জীবন, তবু দেরির শিকার রোগীরা
চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে ইসিজি করা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই আদর্শ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগী কয়েক ঘণ্টা পরে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা, এমনকি পাহাড়ি অঞ্চলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হচ্ছে হাসপাতালে পৌঁছাতে।
অবকাঠামো ও সচেতনতার ঘাটতি
গ্রামীণ অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেই ইসিজি মেশিনের অভাব রয়েছে, যা রোগ নির্ণয়ে বড় বাধা। অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনতেই পারেন না, আবার কেউ কেউ লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে প্রাথমিক সময়েই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুবিধার সংকট
হার্টের জটিল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ল্যাব ও প্রশিক্ষিত কার্ডিওলজিস্ট। কিন্তু দেশে এই সুবিধাগুলো মূলত বড় শহরেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ ক্যাথ ল্যাব বেসরকারি খাতে থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত রোগী পরিবার
হার্টের চিকিৎসা ব্যয় এতটাই বেশি যে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সেই সুবিধা পান না বা বেসরকারি হাসপাতালে তা কার্যকর হয় না। ফলে রোগীদের দূরের সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়, যা আবার সময় নষ্ট করে।
সমাধানের পথ কোথায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিমা কার্যকর করা জরুরি। তা না হলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ভবিষ্যতেও একইভাবে থেকে যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















