০৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা, আড়ালে রইল তাইওয়ান ইস্যুর টানাপোড়েন স্বেচ্ছাসেবায় করপোরেট জাগরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় সিঙ্গাপুর চীনের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্পের, বৈঠকে উঠে এলো ইরান-তাইওয়ান ইস্যুও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, ওয়াশিংটনে সই হলো সমঝোতা স্মারক হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, এলাকাজুড়ে উত্তেজনা এআই যুগে সাইবার যুদ্ধের নতুন আতঙ্ক, হ্যাকারদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বে টালমাটাল লেবার, ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে?

হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ

ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ দূরত্ব, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এবং উচ্চ চিকিৎসা খরচ—সব মিলিয়ে বহু মানুষ অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

সময়ই জীবন, তবু দেরির শিকার রোগীরা

চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে ইসিজি করা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই আদর্শ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগী কয়েক ঘণ্টা পরে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা, এমনকি পাহাড়ি অঞ্চলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হচ্ছে হাসপাতালে পৌঁছাতে।

অবকাঠামো ও সচেতনতার ঘাটতি

গ্রামীণ অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেই ইসিজি মেশিনের অভাব রয়েছে, যা রোগ নির্ণয়ে বড় বাধা। অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনতেই পারেন না, আবার কেউ কেউ লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে প্রাথমিক সময়েই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়।

Heart disease kills 28.6 lakh Indians every year and yet, treatment is uneven and erratic - The Hindu

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুবিধার সংকট

হার্টের জটিল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ল্যাব ও প্রশিক্ষিত কার্ডিওলজিস্ট। কিন্তু দেশে এই সুবিধাগুলো মূলত বড় শহরেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ ক্যাথ ল্যাব বেসরকারি খাতে থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত রোগী পরিবার

হার্টের চিকিৎসা ব্যয় এতটাই বেশি যে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সেই সুবিধা পান না বা বেসরকারি হাসপাতালে তা কার্যকর হয় না। ফলে রোগীদের দূরের সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়, যা আবার সময় নষ্ট করে।

সমাধানের পথ কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিমা কার্যকর করা জরুরি। তা না হলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ভবিষ্যতেও একইভাবে থেকে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা, আড়ালে রইল তাইওয়ান ইস্যুর টানাপোড়েন

হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ

০৮:৫০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ভারতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দীর্ঘ দূরত্ব, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট এবং উচ্চ চিকিৎসা খরচ—সব মিলিয়ে বহু মানুষ অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

সময়ই জীবন, তবু দেরির শিকার রোগীরা

চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে ইসিজি করা এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই আদর্শ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক রোগী কয়েক ঘণ্টা পরে সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা, এমনকি পাহাড়ি অঞ্চলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হচ্ছে হাসপাতালে পৌঁছাতে।

অবকাঠামো ও সচেতনতার ঘাটতি

গ্রামীণ অঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেই ইসিজি মেশিনের অভাব রয়েছে, যা রোগ নির্ণয়ে বড় বাধা। অনেক রোগী হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ চিনতেই পারেন না, আবার কেউ কেউ লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। ফলে প্রাথমিক সময়েই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ হারিয়ে যায়।

Heart disease kills 28.6 lakh Indians every year and yet, treatment is uneven and erratic - The Hindu

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুবিধার সংকট

হার্টের জটিল চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ল্যাব ও প্রশিক্ষিত কার্ডিওলজিস্ট। কিন্তু দেশে এই সুবিধাগুলো মূলত বড় শহরেই সীমাবদ্ধ। অধিকাংশ ক্যাথ ল্যাব বেসরকারি খাতে থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যয়ের চাপে বিপর্যস্ত রোগী পরিবার

হার্টের চিকিৎসা ব্যয় এতটাই বেশি যে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা সেই সুবিধা পান না বা বেসরকারি হাসপাতালে তা কার্যকর হয় না। ফলে রোগীদের দূরের সরকারি হাসপাতালে যেতে হয়, যা আবার সময় নষ্ট করে।

সমাধানের পথ কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট কাটাতে হলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, গ্রামীণ এলাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যবিমা কার্যকর করা জরুরি। তা না হলে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ভবিষ্যতেও একইভাবে থেকে যাবে।