০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ আখচাষিদের বকেয়া ৩২ গুণ বৃদ্ধি, কোটি কোটি টাকা আটকে—চাপ বাড়ছে কৃষকের জীবনে উত্তরাখণ্ডে ভাঙন, ছয় নেতা বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ৮ জেলায় তেল সংকট: শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে জ্বালানি সরবরাহ থমকে গেছে জনসংখ্যা বদল থামাতে বিজেপিই শেষ ভরসা, তৃণমূলকে ঘিরে শাহের বিস্ফোরক চার্জশিট থাইল্যান্ডে নতুন জীবন খুঁজছেন মিয়ানমারের লাখো মানুষ, নিরাপত্তা ও স্বপ্নের লড়াই তীব্রতর ইরান যুদ্ধের ছায়ায় তাইওয়ান সংকট: চীনের হামলার ঝুঁকি কি বাড়ছে? চীনের রাজনীতিতে জিয়াং শেংনানের দৃপ্ত কণ্ঠ, নারীর অধিকারের নতুন অধ্যায় শুরু ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচার মামলায় সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিনের ৬ দিনের নতুন রিমান্ড মমতার তোপে বিজেপি: বাংলা ধ্বংসের চক্রান্তের অভিযোগ, ভোটের আগে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হার্ট অ্যাটাকে দেরি মানেই মৃত্যু ঝুঁকি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিপদ

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

০৭:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।