১১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
তামার নিচে লুকানো সম্পদ, ওপরে জমে থাকা দ্বন্দ্ব: উন্নয়ন, প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের কঠিন সমীকরণ ক্ষুধার বিরুদ্ধে দক্ষিণ আমেরিকার জয়: শুধু ভর্তুকি নয়, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলাই বদলে দিয়েছে বাস্তবতা প্রাণীরা কি নিজেরাই ওষুধ খুঁজে নেয়? আত্মচিকিৎসার রহস্যে খুলছে প্রকৃতির নতুন দরজা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযোগপত্রের শুনানিতে কী হলো, অভিযুক্ত কারা সরকার হঠাৎ মন্ত্রীদের ‘পুলিশ প্রটোকল’ তুলে নিল কেন, কতদিন কার্যকর থাকবে? রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট: চুলা জ্বলছে না, কাঠের চুলায় রান্নায় ফিরছে বহু পরিবার মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: আরও ৫ শিশুর সন্দেহজনক মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৮২৫ সাফল্যের দৌড়ে সততা কেন হারিয়ে যাচ্ছে উপসাগরের অমিল: ইরান যুদ্ধ দেখিয়ে দিল আরব ঐক্যের সীমাবদ্ধতা

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তামার নিচে লুকানো সম্পদ, ওপরে জমে থাকা দ্বন্দ্ব: উন্নয়ন, প্রকৃতি ও রাষ্ট্রের কঠিন সমীকরণ

ভূমধ্যসাগরে মর্মান্তিক মৃত্যু: সুনামগঞ্জের ১২ তরুণসহ ১৮ বাংলাদেশি প্রাণ হারালেন

০৭:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রায় অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ জন তরুণ রয়েছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।


মৃত্যুর সংখ্যা ও পরিচয়

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় মোট ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১২ জন ছিলেন।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী—দিরাই থেকে ৬ জন, জগন্নাথপুর থেকে ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার থেকে ১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুজ্জামান সরদার মইনা (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), মুজিবুর রহমান (৩৮), সুহানুর রহমান, তায়েফ মিয়া; আমিনুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলী (২৭), শায়েখ আহমেদ (২২), নাঈম আহমেদ (২৫), ইজাজুল হক সজিব (২৭) এবং আবু ফাহিম মুন্না (২২)।


কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

বেঁচে ফেরা অভিবাসীরা জানান, মানবপাচারকারীরা তাদের একটি ছোট ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় তুলে দেয়, যেখানে পর্যাপ্ত খাবার ও পানির ব্যবস্থা ছিল না।

দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় অনেকেই ক্ষুধা, পানিশূন্যতা এবং তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে এসব কারণে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন, মৃতদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

ভূমধ্যসাগরে মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা, লাশ ফেলা হয় সাগরে |  প্রথম আলো

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো

পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রতিটি অভিবাসী নিরাপদে গ্রিসে পৌঁছানোর আশায় স্থানীয় দালালদের প্রায় ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও অযোগ্য নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়।


শোকের ছায়া ও দাবি

এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন হারিয়ে পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।

একই সঙ্গে, সম্ভব হলে মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


কেন বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন

স্থানীয়দের মতে, বেকারত্ব এবং উন্নত জীবনের আশাই তরুণদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে বিদেশে যেতে বাধ্য করছে। এ পরিস্থিতি ঠেকাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।