ব্রিটেনে পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই ভালোবাসাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিশাল ভেট শিল্প এখন ধীরে ধীরে চাপে পড়ছে। এক সময় যেটি ছিল বিনিয়োগকারীদের প্রিয় খাত, এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে খরচ কমে যাওয়া, নতুন প্রাণী কম কেনা এবং নিয়ন্ত্রণের চাপ—সব মিলিয়ে সোনালি সময় যেন ফুরিয়ে আসছে।
পোষা প্রাণী নিয়ে উন্মাদনা, কিন্তু খরচে ভাটা
লন্ডনের বড় ভেট প্রদর্শনীতে আজও দেখা যায় পোষা প্রাণীর জন্য নানা আধুনিক পণ্য, স্বাস্থ্যসেবা আর প্রযুক্তির ঝলক। ব্রিটিশরা বছরে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেন ভেট সেবা, পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণে। মহামারির সময় পোষা প্রাণী নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এই খাতে ব্যয়ও দ্রুত বাড়ে।
তবে সেই প্রবৃদ্ধি এখন থেমে গেছে। ২০২৪ সালের পর থেকে গড়ে প্রতি ত্রৈমাসিকে খরচ কমতে শুরু করেছে। বড় ভেট কোম্পানিগুলোর শেয়ারও কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ি বাড়ছে
এই পতনের বড় কারণগুলোর একটি হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি বৃদ্ধি। ভেট সেবার উচ্চ খরচ ও অস্বচ্ছ বিলিং নিয়ে হাজারো অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়। বড় বড় কর্পোরেট গ্রুপ এখন বাজারের বড় অংশ দখল করে রেখেছে, যা প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
নতুন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার মালিকানা তথ্য, নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা এবং প্রেসক্রিপশন ফি নিয়ন্ত্রণ। যদিও এসব পরিবর্তন খুব কঠোর নয়, তবুও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে নতুন বিনিয়োগও অনেক কমে গেছে।
নতুন পোষা প্রাণী কমছে
আরেকটি বড় কারণ হলো নতুন পোষা প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়া। মহামারির সময় যেভাবে মানুষ প্রাণী কিনেছিল, এখন সেই প্রবণতা কমেছে। অফিসে ফিরে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মানুষ নতুন প্রাণী নেওয়ার আগে ভাবছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কুকুরছানা নিবন্ধন একসময় হঠাৎ বেড়ে গেলেও পরের বছরগুলোতে তা দ্রুত কমে গেছে। ফলে ভেট ক্লিনিকগুলোর ভবিষ্যৎ গ্রাহকও কমে যাচ্ছে।

খরচে সংযমী মালিকরা
বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মানুষকে আরও হিসেবি করে তুলেছে। পোষা প্রাণী অসুস্থ হলে তারা খরচ করতে রাজি, কিন্তু অতিরিক্ত বিলাসী পণ্য যেমন দামি কলার, খেলনা বা সাজসজ্জার জিনিস কেনা কমে গেছে। এতে ভেট ব্যবসার অতিরিক্ত আয়ের বড় অংশ কমে যাচ্ছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
তবে ব্রিটেনে পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা এখনও অটুট। মহামারির সময় কেনা প্রাণীগুলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার চাহিদা আবার বাড়তে পারে। একইসঙ্গে নিয়ম-কানুন পরিষ্কার হলে বিনিয়োগকারীরাও ফিরে আসতে পারেন।
তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের মতো দ্রুত মুনাফা ও প্রবৃদ্ধির দিন হয়তো আর ফিরবে না। ভেট শিল্প এখন দ্রুতগতির দৌড় থেকে ধীরগতির পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















