০৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত? বালুচিস্তান সংকট সমাধানে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান ট্রাম্পের প্রশংসায় পাকিস্তান-সৌদি-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি, বললেন ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে পাকিস্তানের বড় শহরে জামায়াতের অবস্থান কর্মসূচি হামে মৃতের সংখ্যা ৯১৫, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ব্যাংকে বাড়তি তারল্য, ৯ শতাংশের নিচে নামল ট্রেজারি বিলের সুদ শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর আলোচনার দরজা খোলা রাখছে পিটিআই, সমঝোতার গুঞ্জনে বাড়ছে জল্পনা নৌবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সকালে কফি খাওয়ার পর হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে? যে ৬ লক্ষণ একেবারেই উপেক্ষা করবেন না

বিকট শব্দে আতঙ্কিত শিশু, কীভাবে সামলাচ্ছেন অভিভাবকেরা—উদ্বেগের মধ্যেও নিরাপত্তার খোঁজ

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আকাশে প্রতিরোধমূলক বিস্ফোরণের শব্দ আর ফোনের সতর্ক সংকেত অনেক পরিবারের জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছে শিশুরা। অচেনা শব্দ, টানা খবর আর চারপাশের উদ্বেগ তাদের মনে ভয়, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

শিশুর মনের ভেতরের ভয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ জোরালো শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে শরীর দ্রুত সতর্ক অবস্থায় চলে যায়, যা শিশুদের ক্ষেত্রে আরও তীব্রভাবে দেখা যায়। তারা শুধু কথা শোনে না, বড়দের মুখের অভিব্যক্তি, আচরণ এবং আবেগ থেকেও পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করে। তাই পরিবারের পরিবেশ তাদের মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

Hypersensitivities in Children: Is it Sensory Processing Disorder?

মায়েদের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল

বিভিন্ন পরিবারে মায়েরা শিশুদের বয়স অনুযায়ী আলাদা কৌশল গ্রহণ করছেন। বড় সন্তানদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব দেওয়া, যেমন জানালা পরীক্ষা করা বা জরুরি প্রস্তুতিতে সাহায্য করা, তাদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে। আবার কিছু শিশুর জন্য সরাসরি ব্যাখ্যার চেয়ে কাছাকাছি বসা বা নির্দিষ্ট সংকেত ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে।

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা হচ্ছে। শব্দ শোনা গেলে নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে প্রিয় কাজের মাধ্যমে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া, জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দেওয়া—এসব পদ্ধতি তাদের ভয় কমাতে সাহায্য করছে। এমনকি যেসব শিশু এখনও কথা বুঝতে পারে না, তারাও বড়দের আচরণ থেকে চাপ অনুভব করে। তাই শান্ত কণ্ঠ, স্বাভাবিক আচরণ এবং পরিচিত সুর বা গান ব্যবহার করে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতির গুরুত্ব

অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, নিজেদের স্থির ও শান্ত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সামনে ভয় বা উদ্বেগ প্রকাশ না করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে তাদের মনেও নিরাপত্তার অনুভূতি জন্মায়। কেউ কেউ সরাসরি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে নিয়ম তৈরি করছেন, যেমন শব্দ শোনা গেলে বাইরে না যাওয়া বা নিরাপদ জায়গায় থাকা।

5 tips to help your toddler cope with loud noises | Lovevery

তবে সব ক্ষেত্রে এই আশ্বাস সমানভাবে কাজ করছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে। তারা বারবার প্রশ্ন করছে, শব্দ শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে এবং অনেক সময় পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারায় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় থেকে বারো বছর বয়সী শিশুরা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হলেও জটিল পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝার ক্ষমতা তাদের থাকে না। তাই অভিভাবকদের উচিত সহজ, পরিষ্কার ও সত্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া, যাতে তারা তথ্য পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে।

শিশুদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। খেলাধুলা, ছবি আঁকা বা গল্প বলার মতো কার্যকলাপ তাদের আবেগকে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অভিভাবকের উপস্থিতি ও সহানুভূতিশীল আচরণ তাদের মানসিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াসুকুনিতে পুরোনো রাজনীতি, নতুন বার্তা: জাপানের যুদ্ধস্মৃতিতে কি বদলের ইঙ্গিত?

বিকট শব্দে আতঙ্কিত শিশু, কীভাবে সামলাচ্ছেন অভিভাবকেরা—উদ্বেগের মধ্যেও নিরাপত্তার খোঁজ

০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আকাশে প্রতিরোধমূলক বিস্ফোরণের শব্দ আর ফোনের সতর্ক সংকেত অনেক পরিবারের জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে পড়ছে শিশুরা। অচেনা শব্দ, টানা খবর আর চারপাশের উদ্বেগ তাদের মনে ভয়, বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে।

শিশুর মনের ভেতরের ভয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ জোরালো শব্দ মানুষের মস্তিষ্কে স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এতে শরীর দ্রুত সতর্ক অবস্থায় চলে যায়, যা শিশুদের ক্ষেত্রে আরও তীব্রভাবে দেখা যায়। তারা শুধু কথা শোনে না, বড়দের মুখের অভিব্যক্তি, আচরণ এবং আবেগ থেকেও পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করে। তাই পরিবারের পরিবেশ তাদের মানসিক অবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

Hypersensitivities in Children: Is it Sensory Processing Disorder?

মায়েদের ভিন্ন ভিন্ন কৌশল

বিভিন্ন পরিবারে মায়েরা শিশুদের বয়স অনুযায়ী আলাদা কৌশল গ্রহণ করছেন। বড় সন্তানদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব দেওয়া, যেমন জানালা পরীক্ষা করা বা জরুরি প্রস্তুতিতে সাহায্য করা, তাদের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি তৈরি করে। আবার কিছু শিশুর জন্য সরাসরি ব্যাখ্যার চেয়ে কাছাকাছি বসা বা নির্দিষ্ট সংকেত ব্যবহার করা বেশি কার্যকর হয়ে উঠছে।

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করা হচ্ছে। শব্দ শোনা গেলে নির্দিষ্ট ঘরে গিয়ে প্রিয় কাজের মাধ্যমে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া, জড়িয়ে ধরে আশ্বাস দেওয়া—এসব পদ্ধতি তাদের ভয় কমাতে সাহায্য করছে। এমনকি যেসব শিশু এখনও কথা বুঝতে পারে না, তারাও বড়দের আচরণ থেকে চাপ অনুভব করে। তাই শান্ত কণ্ঠ, স্বাভাবিক আচরণ এবং পরিচিত সুর বা গান ব্যবহার করে তাদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিভাবকের শান্ত উপস্থিতির গুরুত্ব

অনেক অভিভাবকই মনে করছেন, নিজেদের স্থির ও শান্ত রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের সামনে ভয় বা উদ্বেগ প্রকাশ না করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে তাদের মনেও নিরাপত্তার অনুভূতি জন্মায়। কেউ কেউ সরাসরি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে নিয়ম তৈরি করছেন, যেমন শব্দ শোনা গেলে বাইরে না যাওয়া বা নিরাপদ জায়গায় থাকা।

5 tips to help your toddler cope with loud noises | Lovevery

তবে সব ক্ষেত্রে এই আশ্বাস সমানভাবে কাজ করছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে ভয় দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে। তারা বারবার প্রশ্ন করছে, শব্দ শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে এবং অনেক সময় পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে না পারায় মানসিক চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় থেকে বারো বছর বয়সী শিশুরা পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হলেও জটিল পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝার ক্ষমতা তাদের থাকে না। তাই অভিভাবকদের উচিত সহজ, পরিষ্কার ও সত্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দেওয়া, যাতে তারা তথ্য পায় কিন্তু অতিরিক্ত চাপ অনুভব না করে।

শিশুদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। খেলাধুলা, ছবি আঁকা বা গল্প বলার মতো কার্যকলাপ তাদের আবেগকে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অভিভাবকের উপস্থিতি ও সহানুভূতিশীল আচরণ তাদের মানসিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।