ভারতে তীব্র এলপিজি সংকটের মধ্যে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানলভিত্তিক রান্নার চুলার দিকে ঝুঁকছে সরকার ও শিল্পখাত। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে। এই পরিস্থিতিতে সস্তা ও টেকসই সমাধান হিসেবে ইথানলকে সামনে আনা হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের পেছনের কারণ
গত মাসে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি ক্রেতা ভারত হঠাৎ করেই বড় সংকটে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার পেতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে, অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জ্বালানির অভাবে।

বিকল্প হিসেবে ইথানল ও বায়োগ্যাস
এই পরিস্থিতিতে ইথানল ও বায়োগ্যাসকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে বিভিন্ন শিল্প সংগঠন। তাদের মতে, ইথানলভিত্তিক রান্না শুধু এলপিজির বিকল্প নয়, বরং এটি একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী কয়েক বছরে এই উদ্যোগ এলপিজি ভর্তুকিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারে এবং নিম্নআয়ের কোটি মানুষের উপকারে আসবে।
নতুন প্রযুক্তি ও প্রস্তুতি
ইথানলভিত্তিক চুলা তৈরিতে ইতিমধ্যে গবেষণা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থা এমন চুলার নকশা তৈরি করছে যা হবে কার্যকর ও নিরাপদ। খুব শিগগিরই এসব চুলার পরীক্ষামূলক সংস্করণ বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন বাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
![]()
বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইথানল চুলা এলপিজির একটি বিকল্প হলেও পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমানে প্রচুর ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে জ্বালানি তেলে মিশ্রণের জন্য। সরকার ইতিমধ্যে জ্বালানিতে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই খাতে চাপ বাড়াতে পারে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে
সরকার এখন পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালুর মাধ্যমে ইথানল চুলার কার্যকারিতা যাচাই করতে চায়। সফল হলে এটি ঘরোয়া রান্না থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও ব্যবহার বাড়তে পারে। ফলে জ্বালানি নির্ভরতায় বৈচিত্র্য আসবে এবং সংকট মোকাবিলায় নতুন দিগন্ত খুলবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















