ঢাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্ত শিশুদের ঢল নামছে হাসপাতালে। ক্যানুলা, অক্সিজেন নল আর কান্নায় ভরা এই বাস্তবতা এখন প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে একই চিত্র
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের কারও মাথায়, কারও হাতে বা পায়ে ক্যানুলা লাগানো। অনেকের মাথার এক পাশের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসার সুবিধার্থে। যারা খেতে পারছে না, তাদের নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে।
ওয়ার্ডে মোট ৬০টি শয্যা থাকলেও একটি শয্যাও খালি নেই। একজন রোগী ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, প্রতিটি বেডে চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
অভিভাবকদের অসহায়তা ও উদ্বেগ

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিভাবকদের মুখে একই কথা—অবস্থা গুরুতর, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস নেই। কেউ সন্তানের মাথার ক্যানুলা খুলে ফেলার ভয় নিয়ে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকছেন, কেউ আবার সন্তানের দুর্বলতা দেখে ভেঙে পড়ছেন।
একজন মা জানান, তার শিশু কিছুই খেতে চায় না এবং বারবার ক্যানুলা খুলে ফেলতে চায়। অন্য একজন মা বলেন, ডাক্তার ধৈর্য ধরতে বলছেন, কিন্তু সন্তানের কষ্ট দেখে তা মানা কঠিন হয়ে উঠছে।
মশা ও তেলাপোকার বাড়তি যন্ত্রণা
শুধু রোগ নয়, পরিবেশগত সমস্যাও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ডে মশা ও তেলাপোকার উপদ্রব রয়েছে। রাতে মশার কামড় এবং খাবারে তেলাপোকা পড়া—এই পরিস্থিতি রোগী ও স্বজনদের জন্য অতিরিক্ত দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

তারা পরামর্শ দিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ, পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যত্ন নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মাস্ক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর হিসাব উদ্বেগজনক
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২১ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















