১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাড়বে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা রক্ষণ ভাঙার সব কৌশল ছিল, গোলটাই ছিল না: ঘানার কাছে কেন থমকে গেল ইংল্যান্ড চীনের বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরঝড়ের আতঙ্ক কতটা বাস্তব, আর কতটা মোকাবিলা করা সম্ভব? রোনালদিনহোর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: ৪৬ বছর বয়সে ইতালির রাভেন্নায় যোগ দিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি ডলার নির্ভরতা কমাতে ইন্দোনেশিয়া-চীনের নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনে গতি পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করার দাবি বিজিএমইএর ট্রাম্প-ইরান আলোচনায় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ২

শিশু হাসপাতালে হামের ভয়াবহতা, শয্যা সংকটের সঙ্গে বাড়ছে অভিভাবকদের কান্না

ঢাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্ত শিশুদের ঢল নামছে হাসপাতালে। ক্যানুলা, অক্সিজেন নল আর কান্নায় ভরা এই বাস্তবতা এখন প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে একই চিত্র

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের কারও মাথায়, কারও হাতে বা পায়ে ক্যানুলা লাগানো। অনেকের মাথার এক পাশের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসার সুবিধার্থে। যারা খেতে পারছে না, তাদের নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে।

ওয়ার্ডে মোট ৬০টি শয্যা থাকলেও একটি শয্যাও খালি নেই। একজন রোগী ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, প্রতিটি বেডে চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

অভিভাবকদের অসহায়তা ও উদ্বেগ

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিভাবকদের মুখে একই কথা—অবস্থা গুরুতর, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস নেই। কেউ সন্তানের মাথার ক্যানুলা খুলে ফেলার ভয় নিয়ে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকছেন, কেউ আবার সন্তানের দুর্বলতা দেখে ভেঙে পড়ছেন।

একজন মা জানান, তার শিশু কিছুই খেতে চায় না এবং বারবার ক্যানুলা খুলে ফেলতে চায়। অন্য একজন মা বলেন, ডাক্তার ধৈর্য ধরতে বলছেন, কিন্তু সন্তানের কষ্ট দেখে তা মানা কঠিন হয়ে উঠছে।

মশা ও তেলাপোকার বাড়তি যন্ত্রণা

শুধু রোগ নয়, পরিবেশগত সমস্যাও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ডে মশা ও তেলাপোকার উপদ্রব রয়েছে। রাতে মশার কামড় এবং খাবারে তেলাপোকা পড়া—এই পরিস্থিতি রোগী ও স্বজনদের জন্য অতিরিক্ত দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তা!

তারা পরামর্শ দিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ, পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যত্ন নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মাস্ক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর হিসাব উদ্বেগজনক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২১ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

শিশু হাসপাতালে হামের ভয়াবহতা, শয্যা সংকটের সঙ্গে বাড়ছে অভিভাবকদের কান্না

০৩:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকায় শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আক্রান্ত শিশুদের ঢল নামছে হাসপাতালে। ক্যানুলা, অক্সিজেন নল আর কান্নায় ভরা এই বাস্তবতা এখন প্রতিদিনের দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডজুড়ে একই চিত্র

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত হাম ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, শিশুদের কারও মাথায়, কারও হাতে বা পায়ে ক্যানুলা লাগানো। অনেকের মাথার এক পাশের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসার সুবিধার্থে। যারা খেতে পারছে না, তাদের নল দিয়ে খাবার দেওয়া হচ্ছে।

ওয়ার্ডে মোট ৬০টি শয্যা থাকলেও একটি শয্যাও খালি নেই। একজন রোগী ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন ভর্তি হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, প্রতিটি বেডে চাপ বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

অভিভাবকদের অসহায়তা ও উদ্বেগ

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অভিভাবকদের মুখে একই কথা—অবস্থা গুরুতর, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস নেই। কেউ সন্তানের মাথার ক্যানুলা খুলে ফেলার ভয় নিয়ে ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকছেন, কেউ আবার সন্তানের দুর্বলতা দেখে ভেঙে পড়ছেন।

একজন মা জানান, তার শিশু কিছুই খেতে চায় না এবং বারবার ক্যানুলা খুলে ফেলতে চায়। অন্য একজন মা বলেন, ডাক্তার ধৈর্য ধরতে বলছেন, কিন্তু সন্তানের কষ্ট দেখে তা মানা কঠিন হয়ে উঠছে।

মশা ও তেলাপোকার বাড়তি যন্ত্রণা

শুধু রোগ নয়, পরিবেশগত সমস্যাও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, ওয়ার্ডে মশা ও তেলাপোকার উপদ্রব রয়েছে। রাতে মশার কামড় এবং খাবারে তেলাপোকা পড়া—এই পরিস্থিতি রোগী ও স্বজনদের জন্য অতিরিক্ত দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসেও অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তা!

তারা পরামর্শ দিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ, পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যত্ন নিতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মাস্ক ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর হিসাব উদ্বেগজনক

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ২১ জন, আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২৮ জনের।

এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং শিশুদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।