অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মার করা মামলায় কংগ্রেস নেতা পাওয়ান খেরা আগাম জামিন চেয়ে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকে নিজেকে সুরক্ষা দিতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে তাঁর আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠার কথা রয়েছে।
হায়দরাবাদের ঠিকানা দেখিয়ে আবেদন
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে পাওয়ান খেরা জানিয়েছেন, তাঁর আবাসিক ঠিকানা হায়দরাবাদে। তাঁর স্ত্রীরও তেলেঙ্গানার সঙ্গে পারিবারিক যোগ রয়েছে এবং সেখানেই তাঁর একটি বাসস্থান আছে। সেই কারণেই তিনি তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। গ্রেপ্তার হলে যাতে তাঁকে অবিলম্বে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়, সেই আর্জিই জানিয়েছেন তিনি।

নিজেকে আইনমান্য নাগরিক দাবি
আগাম জামিনের আবেদনে খেরা বলেছেন, তিনি একজন আইনমান্য নাগরিক, তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি দেশের প্রধান বিরোধী দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা। মামলার তদন্তে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও আদালতকে জানিয়েছেন। এই যুক্তিতেই তিনি গ্রেপ্তারের আগে জামিন পাওয়ার আবেদন করেছেন।
অসম পুলিশকে ব্যবহার করার অভিযোগ
পাওয়ান খেরা অভিযোগ করেছেন, তাঁর তোলা প্রশ্নের রাজনৈতিক জবাব না দিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশকে ব্যবহার করছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রীর বিদেশি বিনিয়োগ, একাধিক পাসপোর্ট এবং বিদেশে থাকা ব্যবসায়িক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তারই জেরে এই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।
এই অভিযোগের পরেই মঙ্গলবার অসম পুলিশের একটি দল দিল্লিতে গিয়ে নিজামুদ্দিন এলাকায় খেরার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। দিল্লি পুলিশও তাদের সঙ্গে ছিল।

মামলার ভিত্তি কী
এই পুলিশি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে রিনিকি ভূঞা শর্মার করা একটি ফৌজদারি অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস তাঁকে নিশানা করতে জাল ও ভুয়া নথি ব্যবহার করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গuwাহাটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় পাওয়ান খেরার বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ, প্রতারণার অভিযোগ এবং আরও কিছু আইনি ধারা। এই মামলা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
গোপন স্থান থেকে খেরার বার্তা
অজ্ঞাত স্থান থেকে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় পাওয়ান খেরা বলেছেন, কংগ্রেস কেবল প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতেও প্রশ্ন তুলবে। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখানো শাসকদলের অভ্যাস হতে পারে, কিন্তু ভয় পাওয়া বিরোধীদের স্বভাব নয়। তিনি আরও বলেন, তাঁর কাছে আরও প্রশ্ন আছে বলেই তিনি পুলিশের সামনে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিদেশি সংযোগ নিয়ে নতুন করে অভিযোগ
পাওয়ান খেরা আবারও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াইওমিংয়ে একটি কোম্পানির সঙ্গে রিনিকি ভূঞা শর্মার যোগ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই সংস্থার সঙ্গে লন্ডন, দুবাই এবং ঢাকার ঠিকানার সম্পর্ক দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগসূত্র থাকার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। আগের মতোই তিনি একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসার প্রসঙ্গও আবার সামনে এনেছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পাল্টা বক্তব্য
এই সব অভিযোগের পাল্টা জবাবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, পাওয়ান খেরার মাধ্যমে আবারও সম্পূর্ণ মনগড়া নথি ছড়ানো হয়েছে, যা তাঁদের দল আগেই ভুয়া বলে প্রমাণ করেছে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি আর সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নেই, বরং এটি সরাসরি প্রতারণার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র
এই মামলাকে ঘিরে কংগ্রেস ও অসম সরকারের মধ্যে সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে কংগ্রেস বলছে, তারা শুধু জনস্বার্থে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার অভিযোগ করছে, রাজনৈতিক আক্রমণের জন্য মিথ্যা নথি ব্যবহার করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন এই বিরোধে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















