বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি দাবি করেছেন, ভোটের মাঠে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা তিনি ‘মাগুরা স্টাইলে’ ভোট বলে বর্ণনা করেছেন।
ভোটের মাঝপথে অভিযোগ
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে, ভোট শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে এক সংবাদ সম্মেলনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য, তারা ভোট বর্জন করেননি, কারণ দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে পুরো পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করতে চান। একই সঙ্গে জাতির সামনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরতেই তারা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেছেন।
উপনির্বাচনের সময়সূচি
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলে। ভোট শেষে শুরু হয় গণনার কাজ।
কারচুপি ও ভয়ভীতির অভিযোগ
আবিদুর রহমান সোহেল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তাদের দলীয় কর্মী, পোলিং এজেন্ট এবং বিশেষ করে নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, জাল ভোট দেওয়া এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
তার দাবি, এসব বিষয়ে মোট ২০টি অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলেও তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা নেননি। বরং সরকারি দলের পক্ষেই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কর্মীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
জামায়াত প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, আরাফাত নামে তাদের এক কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
ফলাফল পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ
দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, তারা যেন ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র না ছাড়েন। তার বক্তব্য, নির্বাচনের পুরো চিত্র শেষ পর্যন্ত দেখা দরকার, যাতে কী ঘটেছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা যায়।
নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক এবং শহর কমিটির সেক্রেটারি আব্দুল মালেক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















