শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে নানা অনিয়ম, কারচুপি, জাল ভোট, প্রভাব বিস্তার, হামলা এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুসুদুর রহমান মাসুদ।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া, শ্রীবরদী জামায়াতের আমির আজহারুল ইসলাম মিষ্টাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
যেসব অভিযোগ তুললেন প্রার্থী
লিখিত বক্তব্যে মাসুদ দাবি করেন, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তত ১০ থেকে ১৫টি কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের ওপর হামলাও হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপারের পেছনে সিল ও স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খরিয়া কাজীরচরের লঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি বুথ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সব বুথ এবং মামদাবাড়ি কেন্দ্রের সব ব্যালট পেপারের পেছনে আগেই সিল ও স্বাক্ষর দেওয়া ছিল, যা অনৈতিক।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
জামায়াতের এই প্রার্থী অভিযোগ করেন, মামদাবাড়ি ও শ্রীবরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা জাল ভোট দিয়েছেন এবং প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল মেরেছেন। একই সঙ্গে তাঁর ভাগ্নেকে বাড়ি থেকে তুলে আনার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি আমির হামজা এসবের প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এজেন্ট বের করে দেওয়া ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ
মাসুসুদুর রহমান মাসুদ আরও বলেন, শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, চরশিমূলচূড়া এবং ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের আয়নাপুর কেন্দ্রসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, ভোটারদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি জাল ভোটে জড়িতদের আটক করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ কারণগুলো বিবেচনায় নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।

বিএনপি প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ব্যস্ততার কারণে তিনি কথা বলতে পারেননি। তবে এর আগে দুপুরে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ভোটারদের মনোভাব দেখে তিনি পুরোপুরি নিশ্চিত যে ধানের শীষ জয়ী হবে।
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, তারা গরিব এলাকায় ভোট কেনা এবং বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারদর্শী। তাঁর দাবি, পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এজেন্ট থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বা জোর করে সিল মারা হচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ তুলে তারা জনগণ ও প্রশাসনের দৃষ্টি অন্যদিকে নিতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ভোটের পরিবেশ নিজেদের অনুকূলে না থাকায় জামায়াত ইস্যু তৈরি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করতে পারে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন ঘিরে বিরোধী পক্ষগুলোর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে জামায়াত প্রার্থী অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী এসব অভিযোগকে গুজব ও কৌশল হিসেবে দেখছেন। ফলে নির্বাচন ঘিরে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















