রাজধানীর দুটি পেট্রোল পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানি বিক্রি শুরু করেছে সরকার। জ্বালানি বিতরণে আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্মসচিব (অপারেশন বিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
কোথায় শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
তিনি জানান, রাজধানীর আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন এবং তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু হয়েছে।
তার ভাষ্য, উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের ভালো সাড়া পেয়েছে। নিবন্ধনের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং তা শিগগিরই ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রথমে মোটরসাইকেল, পরে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো কিছুটা সময়সাপেক্ষ। আপাতত এই দুই স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। পরে ধীরে ধীরে এটি ঢাকার আরও এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে সারা দেশেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযানের চিত্র
তিনি আরও জানান, ৮ এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধভাবে মজুত রাখা মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৬২১ লিটার এবং পেট্রোল ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার।
এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ৩ হাজার ১১০টি মামলা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ৩৬ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মজুত পরিস্থিতি ও সরবরাহ নিয়ে আশ্বাস
বর্তমান মজুত সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে এখন ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ৪ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১৬ হাজার ৮১২ টন পেট্রোল মজুত রয়েছে।
তার দাবি, নিয়মিত আমদানি ও সরবরাহ অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো ঘাটতি হবে না।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে
অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযান ও তদন্ত একসঙ্গেই চলছে। দায়ী যাকেই পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভর্তুকির চাপ ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের চাপের কারণে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত খরচ প্রায় ১৫৫ টাকা। ফলে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা চলমান থাকায় মোট আর্থিক চাপ কত দাঁড়াবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আতঙ্ক বা অতিরিক্ত মজুতের দরকার নেই
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। তাই আতঙ্কিত হওয়া বা অতিরিক্ত মজুত করার প্রয়োজন নেই।
তার মতে, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি কেনা হলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। মানুষের সচেতনতা বাড়লে এবং সরবরাহ অব্যাহত থাকলে বাজারে স্থিতি ফিরবে, ভোগান্তিও কমে আসবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















