০২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের অস্থির কৌশল নিয়ে বেইজিংয়ের চিন্তা, শি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব চীনের ইউয়ান লেনদেনে রেকর্ড, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন গতি দিল হরমুজ প্রণালিতে টোল নিয়ে নতুন ভাবনা, ফি বা চীনা টোকেনে নিষ্পত্তির প্রস্তাব এক কিশোরের বেঁচে ওঠার গল্প অভিজাত স্কুলের একাকিত্ব থেকে ইমোর ভিড়ে— সার উৎপাদনে গতি ফিরিয়ে আনতে বড় পদক্ষেপ, কৃষি ও শিল্প খাতে বাড়ানো হলো বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ কেরালার ভোটে লম্বা লাইন, নীরব বার্তা আর তৃতীয় মেয়াদের কঠিন পরীক্ষা গ্লোবাল ভিলেজ কবে খুলবে, এখনো নেই নিশ্চিত তারিখ ফুয়েল পাসে ঢাকার দুই পাম্পে জ্বালানি বিক্রি শুরু পরীক্ষামূলকভাবে শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার শঙ্কা, জ্বালানি সংকটে চাপ বাড়ছে

শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে শ্রমিকের অধিকার আরও শক্তিশালী করা, ছাঁটাই সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ স্পষ্ট করা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দেশের শ্রমব্যবস্থাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা সংশোধনী অধ্যাদেশকে কিছু পরিবর্তনসহ আইনে রূপ দেওয়া হলো।

কেন আনা হলো এই সংশোধন

বিলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, দেশের শ্রমমানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা এবং শ্রমিকের জন্য শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গেও এই উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধনী অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের আর্থিক সহায়তাকে মানবিক দায়বদ্ধতা বিবেচনা  করে সরকার'

ছাঁটাই ক্ষতিপূরণে কী বদল এলো

নতুন সংশোধনে ধারাবাহিক চাকরির সংজ্ঞা আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন ১২ মাসে ২৪০ দিন বা ৬ মাসে ১২০ দিন কাজ করলে তা ধারাবাহিক চাকরি হিসেবে গণ্য হবে। ক্ষতিপূরণ হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বশেষ মাসিক মজুরি ও ভাতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিবন্ধনে নাম থাকা এবং অন্তত তিন মাস চাকরি করা শ্রমিক পূর্ণ ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। যাঁরা বদলি শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও এক বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের আর বদলি শ্রমিক হিসেবে ধরা হবে না—ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এটিও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে সহজ শর্ত

এই বিলে সংগঠন করার স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার এমন কিছু শ্রমিকের কাছেও সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যাঁরা আগে এই অধিকার থেকে বাদ ছিলেন। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য সদস্যসংখ্যার শর্ত কমানো হয়েছে এবং কাগজপত্রের জটিলতাও সহজ করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তার সংখ্যা ইউনিয়নের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। নির্বাহী ও সাধারণ সভাও গঠনতন্ত্র মেনে করতে হবে, আর বছরে অন্তত একটি সাধারণ সভা বাধ্যতামূলক থাকবে।

নিবন্ধনের জন্য অন্তত ২০ জন শ্রমিক আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকসংখ্যা অনুযায়ী সদস্যের ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০০ জন পর্যন্ত শ্রমিক থাকলে ২০ সদস্য, আর ৩ হাজারের বেশি শ্রমিক থাকলে ৪০০ সদস্য প্রয়োজন হবে।

১০০ দিনের লক্ষ্য ঠিক করে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর | প্রথম আলো

নিবন্ধন যাচাই হবে কীভাবে

ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করবেন মহাপরিচালক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকতালিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেও যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠান বা একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ তিনটি ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন থাকার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

অন্যায্য শ্রমচর্চা ও ইউনিয়নবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা

নতুন বিলে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যদের অন্যায্য শ্রমচর্চা এবং ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিয়োগকর্তারা আর কোনো শ্রমিক বা ইউনিয়ন সদস্যকে কালোতালিকাভুক্ত করতে পারবেন না। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন গঠন, ইউনিয়নের কাজে প্রভাব ফেলতে আর্থিক বা অন্য সহায়তা দেওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন গঠনে উৎসাহ দেওয়া কিংবা বৈষম্যমূলকভাবে ইউনিয়ন নেতাকে চাকরিচ্যুত করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ দায়ের, আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বা অন্যায্য শ্রমচর্চার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার কারণে কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও আইনত অপরাধ হিসেবে ধরা হবে।

অভিযোগ নিষ্পত্তিতে নতুন ক্ষমতা

সংশোধিত আইনে অন্যায্য শ্রমচর্চা ও ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে। এর আওতায় মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগকর্তাকে এমন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবেন। কোনো শ্রমিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী নতুন সুরক্ষা

বিলে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ঠেকাতেও নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক মত বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে শ্রমিকের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো বৈষম্য করা যাবে না।

শ্রম আইনে এই পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন সংশোধন শুধু আইনগত ভাষা বদল নয়, বরং শ্রমিক সুরক্ষা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যরোধ—এই চারটি ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে, আর নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহিও বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের অস্থির কৌশল নিয়ে বেইজিংয়ের চিন্তা, শি বৈঠকের আগে বাড়ছে কূটনৈতিক হিসাব

শ্রম আইন সংশোধনী পাস, ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারে বড় পরিবর্তন

১১:৪৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে শ্রমিকের অধিকার আরও শক্তিশালী করা, ছাঁটাই সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণ স্পষ্ট করা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে দেশের শ্রমব্যবস্থাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা সংশোধনী অধ্যাদেশকে কিছু পরিবর্তনসহ আইনে রূপ দেওয়া হলো।

কেন আনা হলো এই সংশোধন

বিলের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, দেশের শ্রমমানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা এবং শ্রমিকের জন্য শোভন কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গেও এই উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সংশোধনী অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের আর্থিক সহায়তাকে মানবিক দায়বদ্ধতা বিবেচনা  করে সরকার'

ছাঁটাই ক্ষতিপূরণে কী বদল এলো

নতুন সংশোধনে ধারাবাহিক চাকরির সংজ্ঞা আরও পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন ১২ মাসে ২৪০ দিন বা ৬ মাসে ১২০ দিন কাজ করলে তা ধারাবাহিক চাকরি হিসেবে গণ্য হবে। ক্ষতিপূরণ হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বশেষ মাসিক মজুরি ও ভাতাও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিবন্ধনে নাম থাকা এবং অন্তত তিন মাস চাকরি করা শ্রমিক পূর্ণ ছাঁটাই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন। যাঁরা বদলি শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করলেও এক বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের আর বদলি শ্রমিক হিসেবে ধরা হবে না—ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে এটিও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে সহজ শর্ত

এই বিলে সংগঠন করার স্বাধীনতা ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার এমন কিছু শ্রমিকের কাছেও সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যাঁরা আগে এই অধিকার থেকে বাদ ছিলেন। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য সদস্যসংখ্যার শর্ত কমানো হয়েছে এবং কাগজপত্রের জটিলতাও সহজ করা হয়েছে।

সংশোধিত বিধানে বলা হয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তার সংখ্যা ইউনিয়নের নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। নির্বাহী ও সাধারণ সভাও গঠনতন্ত্র মেনে করতে হবে, আর বছরে অন্তত একটি সাধারণ সভা বাধ্যতামূলক থাকবে।

নিবন্ধনের জন্য অন্তত ২০ জন শ্রমিক আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রমিকসংখ্যা অনুযায়ী সদস্যের ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৩০০ জন পর্যন্ত শ্রমিক থাকলে ২০ সদস্য, আর ৩ হাজারের বেশি শ্রমিক থাকলে ৪০০ সদস্য প্রয়োজন হবে।

১০০ দিনের লক্ষ্য ঠিক করে দলগতভাবে কাজ করার আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর | প্রথম আলো

নিবন্ধন যাচাই হবে কীভাবে

ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করবেন মহাপরিচালক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকতালিকা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমেও যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে একটি প্রতিষ্ঠান বা একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ তিনটি ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন থাকার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

অন্যায্য শ্রমচর্চা ও ইউনিয়নবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা

নতুন বিলে শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন সদস্যদের অন্যায্য শ্রমচর্চা এবং ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্য থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিয়োগকর্তারা আর কোনো শ্রমিক বা ইউনিয়ন সদস্যকে কালোতালিকাভুক্ত করতে পারবেন না। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে ইউনিয়ন গঠন, ইউনিয়নের কাজে প্রভাব ফেলতে আর্থিক বা অন্য সহায়তা দেওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনিয়ন গঠনে উৎসাহ দেওয়া কিংবা বৈষম্যমূলকভাবে ইউনিয়ন নেতাকে চাকরিচ্যুত করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগ দায়ের, আইনি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বা অন্যায্য শ্রমচর্চার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার কারণে কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও আইনত অপরাধ হিসেবে ধরা হবে।

অভিযোগ নিষ্পত্তিতে নতুন ক্ষমতা

সংশোধিত আইনে অন্যায্য শ্রমচর্চা ও ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন ধারা যোগ করা হয়েছে। এর আওতায় মহাপরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগকর্তাকে এমন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবেন। কোনো শ্রমিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী নতুন সুরক্ষা

বিলে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ঠেকাতেও নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক মত বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে শ্রমিকের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো বৈষম্য করা যাবে না।

শ্রম আইনে এই পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ

নতুন সংশোধন শুধু আইনগত ভাষা বদল নয়, বরং শ্রমিক সুরক্ষা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যরোধ—এই চারটি ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার কাঠামো আরও স্পষ্ট হবে, আর নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহিও বাড়বে।