হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাড়াতে পারছে না ইরান। কারণ, তারা নিজেরাই যে মাইন বসিয়েছিল, এখন সেই মাইনগুলোর অনেকগুলোর অবস্থান খুঁজে পাচ্ছে না এবং সেগুলো সরানোর সক্ষমতাও তাদের নেই—এমনটাই জানিয়েছে আমেরিকার কর্মকর্তারা।
এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও দ্রুত প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে পাকিস্তানে চলা ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনাতেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাইন বসানোর পরেই সমস্যা
গত মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান ছোট নৌকা দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসায়। এর সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয় যুক্ত হওয়ায় তেলবাহী জাহাজসহ অনেক জাহাজ চলাচল কমে যায়।
এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতিতে ইরানের কৌশলগত সুবিধা তৈরি হয়। তবে পুরো প্রণালী বন্ধ না করে একটি নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়, যেখানে টাকা দিয়ে জাহাজ চলতে পারে।

অগোছালোভাবে মাইন বসানো
আমেরিকার কর্মকর্তাদের মতে, ইরান ঠিকভাবে পরিকল্পনা না করে মাইন বসিয়েছে। অনেক মাইনের অবস্থান তারা লিখে রাখেনি। আবার কিছু মাইন পানির স্রোতে সরে গেছে।
এ কারণে নিরাপদ পথ খুব সীমিত হয়ে গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা মাইনের সঙ্গে ধাক্কা না খায়।
মাইন সরানো কঠিন কাজ
সমুদ্রের মাইন সরানো খুব কঠিন। আমেরিকার কাছেও এই কাজের জন্য সীমিত ব্যবস্থা আছে। ইরানের অবস্থাও একই, তারা দ্রুত মাইন সরাতে পারে না, এমনকি নিজেরা যে মাইন বসিয়েছে সেগুলোও না।
এই কারণেই হরমুজ প্রণালী দ্রুত পুরোপুরি নিরাপদ করা যাচ্ছে না।
যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন।
এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কিছু “প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা” আছে। আমেরিকার মতে, এই সীমাবদ্ধতা মূলত মাইন খুঁজে পাওয়া ও সরানোর সমস্যাই।
এই বিষয়টি এখন পাকিস্তানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামরিক চাপেও পুরো সমাধান নয়
আমেরিকা ইরানের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালালেও ইরানের কাছে এখনও অনেক ছোট নৌকা রয়েছে। এসব নৌকা দিয়ে তারা আবার মাইন বসাতে পারে বা জাহাজকে বাধা দিতে পারে।
সব নৌকা ধ্বংস করা সম্ভব না হওয়ায় সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।
হুমকিতে বাড়ছে ঝুঁকি

মাইন বসানোর আগেই ইরানের হুমকিতে জাহাজ চলাচল কমে যায় এবং তেলের দাম বাড়ে। মার্চের শুরুতে ইরানের এক কর্মকর্তা হুমকি দেন, প্রণালীতে ঢুকলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।
এরপর থেকেই ধীরে ধীরে মাইন বসানো শুরু হয়।
মাইনের সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা
ইরান ঠিক কতগুলো মাইন বসিয়েছে বা সেগুলো কোথায় আছে—তা নিশ্চিতভাবে জানা যাচ্ছে না। ছোট নৌকা দিয়ে মাইন বসানোয় সেগুলো খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই অনিশ্চয়তাই হরমুজ প্রণালীকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















