১০:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা বিরক্তির মৃত্যু নাকি নতুন সংকট: ব্রিটেনে কমছে একসময়ের ‘মহামারি’ অনুভূতি ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানের কঠোর বার্তা, এক্স বার্তায় স্পষ্ট করলেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানি মিডিয়ার দাবি: যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবিতে’ ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা চাপ নয়, নিজের শর্তেই আলোচনা—কঠোর বার্তা ইরানের টানা সাত দিন উড়তে পারে যে বিমান, এড়াতে পারে পারমাণবিক হামলার প্রভাব পাকিস্তানে ইরান- আমেরিকা আলোচনা ব্যর্থ: ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও শান্তি চুক্তি হয়নি, জানালেন ভ্যান্স যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সহজ ও আধ্যাত্মিক জীবনের পথে এক গ্রাম টোকিওর পথে পুরোনো প্রেম, না কি নতুন শুরু? সম্পর্কের জটিলতায় ভরপুর এক ভিন্নধর্মী প্রেমকাহিনি

যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে

গাজায় এখন ধ্বংসস্তূপ সর্বত্র। এখানে ধ্বংসেরও একাধিক রূপ আছে। যে উঁচু ভবনগুলোতে একসময় বহু পরিবার বাস করত, সেগুলো এখন স্তূপে পরিণত—ভাঙা কংক্রিটের স্তর, বাঁকানো লোহার রড যেন উন্মুক্ত স্নায়ুর মতো বেরিয়ে আছে। কোথাও ভবনের অংশ হেলে আছে, কোথাও নিচতলা উধাও হয়ে ওপরের তলাগুলো ঝুলে আছে। রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে ধ্বংসাবশেষে। মানুষ ধীরে হাঁটে, পা ফেলতে গিয়ে বারবার থামে, নিরাপদ জায়গা খোঁজে।

এটি শুধু ধ্বংসের দুঃখ নয়। এই অন্তহীন ধ্বংসস্তূপ আরেক ধরনের সহিংসতা তৈরি করে—ধ্বংসের মধ্যেই বাঁচতে বাধ্য হওয়ার সহিংসতা। এই ধ্বংস শুধু অতীতকে নয়, ভবিষ্যৎকেও মুছে দেয়। মানুষের চিন্তা, কল্পনা, স্বপ্ন—সবকিছুকে থামিয়ে দেয়।

যুদ্ধবিরতির পরও যুদ্ধ থামেনি
গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় মাস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ থামেনি। বিমান হামলা আগের মতো ঘনঘন না হলেও এখনও মানুষ মারা যাচ্ছে। এই সপ্তাহেই একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও একটি শিশু আহত হয়েছে।

বিদেশে থাকা মানুষজন জানতে চায়—রাতে এখনও ড্রোনের শব্দ শোনা যায় কি না। একসময় সেই শব্দ রেকর্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কারণ এটি এখন গাজার মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে—প্রকৃতিতে, দৈনন্দিন জীবনে, মানুষের শরীরে। বাইরে মানুষ “নতুন গাজা” নিয়ে কথা বলে—ঝকঝকে শহরের কল্পনা করে। কিন্তু ভেতর থেকে সেই ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। যুদ্ধ যেন এখনও শেষ হয়নি।

Life in Gaza under war, through Iman's eyes | United Nations Development  Programme

ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকানো কবর
গাজার অনেক জায়গায় ধ্বংসস্তূপই কবর। আমজাদ আল-আফ, ২৩ বছর বয়সী এক যুবক, যুদ্ধবিরতির সময় নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসেন পরিবারের লাশ খুঁজতে। তার পা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে ভেঙে গিয়েছিল, তবুও তিনি ফিরে এসেছিলেন।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর এক বিমান হামলায় তার পরিবারের আশ্রয়স্থল ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় নয় ঘণ্টা আটকে ছিলেন। অন্ধকারে তিনি বারবার পরিবারের সদস্যদের নাম ধরে ডাকেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।

পরে জানা যায়, একের পর এক চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল। গাজায় এটিকে “আগুনের বৃত্ত” বলা হয়—এক ধরনের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ।

শেষ পর্যন্ত তিনি তার বাবা, ভাই ও ৯ বছর বয়সী ছোট বোন সেলিয়ার মরদেহ খুঁজে পান। কিন্তু তার মা, বড় বোন ও ভাবি এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়ে গেছেন।

ভেঙে যাওয়া ঘর মানে ভেঙে যাওয়া পরিচয়
সিহাম আল-হায়েকের জীবনও এই যুদ্ধ বদলে দিয়েছে। তিনি এখন একটি খালি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরের ছাদ ভাঙা, বৃষ্টির পানি আটকাতে কোণে কোণে পাত্র রাখা।

তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে বৃষ্টি ছিল আশীর্বাদ। এখন তা ভয়। তাঁবু ভেঙে পড়ে, ঘর ভিজে যায়। এমনকি প্রকৃতিও যেন বদলে গেছে।

তার অ্যাপার্টমেন্টটি ছিল তার জীবনের কেন্দ্র—সেখানে তিনি ২০০৪ সাল থেকে বাস করছিলেন। রান্নাঘরে পরিবার একসঙ্গে সময় কাটাত। সেই ভবনটি এক হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি প্রায় ঋণ শোধ করে ফেলেছিলেন। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যায়।

ছিন্নভিন্ন পরিবার, হারিয়ে যাওয়া মানুষ
সামাহের মুসলেহ, ৪৯ বছর বয়সী এক নারী, এখন একটি তাঁবুতে বাস করেন। একসময় তার সবকিছু ছিল—পরিবার, ঘর, স্বাভাবিক জীবন। এখন তার সন্তানদের মধ্যে একজন নিহত, একজন নিখোঁজ।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার ছোট মেয়ে মারিয়াম বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়। শরীরে শেলের তিনটি টুকরো ঢুকে যায়। অনেক কষ্টে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তার বড় ছেলে নাবিল, যিনি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, একদিন বাবাকে দেখতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন। আরেক ছেলে জাবের খাবারের সন্ধানে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

New UN report: Impacts of war have set back development in Gaza by as much  as 69 years | United Nations Development Programme

নিখোঁজ হওয়ার এই অভিজ্ঞতা গাজায় নতুন। কেউ জানে না তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, হাসপাতালগুলো ভেঙে পড়েছে, মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে।

মুসলেহ তার ছেলেকে খুঁজতে সব জায়গায় যোগাযোগ করেছেন—আত্মীয়স্বজন, বিভিন্ন সংস্থা—কিন্তু কোনো নিশ্চিত খবর পাননি।

অস্থায়ী জীবনই স্থায়ী হয়ে উঠছে
গাজায় এখন তাঁবুর শহর গড়ে উঠেছে। শিবিরগুলোর নাম রাখা হয়েছে—মর্যাদা, প্রত্যাবর্তন, জীবন। অস্থায়ী আশ্রয়গুলো ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে উঠছে।

বাজারে খাবার আছে, কিন্তু দাম বেশি। সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ নেই। শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ।

মানুষ কাজ করার চেষ্টা করে, ছোটখাটো উপায়ে আয় করে। কিন্তু জীবন অনিশ্চিত।

যুদ্ধ এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা
গাজায় যুদ্ধ এখন শুধু বোমা হামলা নয়—এটি প্রতিদিনের জীবনের অংশ। পানি সংগ্রহ, ফোন চার্জ, আগুনে রান্না—সবই সংগ্রাম।

মানুষ এখন এক অচেনা জীবনে বাস করছে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কোনো পথ নেই।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই মানুষগুলো কীভাবে তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে? কীভাবে আবার জীবন গড়বে? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই।

এই যুদ্ধ তাদের ভেতরে থেকে যাবে, যেমন অতীতের যুদ্ধ আগের প্রজন্মের ভেতরে রয়ে গেছে।

গাজায় মানুষ বেঁচে আছে, কিন্তু তারা আর আগের জীবনে ফিরতে পারবে না। তারা শিখছে—এই মাঝামাঝি অবস্থাতেই কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে শিক্ষকের মান কেন এত দুর্বল: সংকটের গভীর কারণ ও বাস্তবতা

যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে

০৮:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় এখন ধ্বংসস্তূপ সর্বত্র। এখানে ধ্বংসেরও একাধিক রূপ আছে। যে উঁচু ভবনগুলোতে একসময় বহু পরিবার বাস করত, সেগুলো এখন স্তূপে পরিণত—ভাঙা কংক্রিটের স্তর, বাঁকানো লোহার রড যেন উন্মুক্ত স্নায়ুর মতো বেরিয়ে আছে। কোথাও ভবনের অংশ হেলে আছে, কোথাও নিচতলা উধাও হয়ে ওপরের তলাগুলো ঝুলে আছে। রাস্তাগুলো সংকীর্ণ হয়ে গেছে ধ্বংসাবশেষে। মানুষ ধীরে হাঁটে, পা ফেলতে গিয়ে বারবার থামে, নিরাপদ জায়গা খোঁজে।

এটি শুধু ধ্বংসের দুঃখ নয়। এই অন্তহীন ধ্বংসস্তূপ আরেক ধরনের সহিংসতা তৈরি করে—ধ্বংসের মধ্যেই বাঁচতে বাধ্য হওয়ার সহিংসতা। এই ধ্বংস শুধু অতীতকে নয়, ভবিষ্যৎকেও মুছে দেয়। মানুষের চিন্তা, কল্পনা, স্বপ্ন—সবকিছুকে থামিয়ে দেয়।

যুদ্ধবিরতির পরও যুদ্ধ থামেনি
গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ছয় মাস হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধ থামেনি। বিমান হামলা আগের মতো ঘনঘন না হলেও এখনও মানুষ মারা যাচ্ছে। এই সপ্তাহেই একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও একটি শিশু আহত হয়েছে।

বিদেশে থাকা মানুষজন জানতে চায়—রাতে এখনও ড্রোনের শব্দ শোনা যায় কি না। একসময় সেই শব্দ রেকর্ড করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কারণ এটি এখন গাজার মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

যুদ্ধ গাজার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে—প্রকৃতিতে, দৈনন্দিন জীবনে, মানুষের শরীরে। বাইরে মানুষ “নতুন গাজা” নিয়ে কথা বলে—ঝকঝকে শহরের কল্পনা করে। কিন্তু ভেতর থেকে সেই ভবিষ্যৎ কল্পনা করা কঠিন। যুদ্ধ যেন এখনও শেষ হয়নি।

Life in Gaza under war, through Iman's eyes | United Nations Development  Programme

ধ্বংসস্তূপের নিচে লুকানো কবর
গাজার অনেক জায়গায় ধ্বংসস্তূপই কবর। আমজাদ আল-আফ, ২৩ বছর বয়সী এক যুবক, যুদ্ধবিরতির সময় নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপে ফিরে আসেন পরিবারের লাশ খুঁজতে। তার পা কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে ভেঙে গিয়েছিল, তবুও তিনি ফিরে এসেছিলেন।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর এক বিমান হামলায় তার পরিবারের আশ্রয়স্থল ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় নয় ঘণ্টা আটকে ছিলেন। অন্ধকারে তিনি বারবার পরিবারের সদস্যদের নাম ধরে ডাকেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।

পরে জানা যায়, একের পর এক চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছিল। গাজায় এটিকে “আগুনের বৃত্ত” বলা হয়—এক ধরনের ধারাবাহিক বিস্ফোরণ।

শেষ পর্যন্ত তিনি তার বাবা, ভাই ও ৯ বছর বয়সী ছোট বোন সেলিয়ার মরদেহ খুঁজে পান। কিন্তু তার মা, বড় বোন ও ভাবি এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়ে গেছেন।

ভেঙে যাওয়া ঘর মানে ভেঙে যাওয়া পরিচয়
সিহাম আল-হায়েকের জীবনও এই যুদ্ধ বদলে দিয়েছে। তিনি এখন একটি খালি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘরের ছাদ ভাঙা, বৃষ্টির পানি আটকাতে কোণে কোণে পাত্র রাখা।

তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে বৃষ্টি ছিল আশীর্বাদ। এখন তা ভয়। তাঁবু ভেঙে পড়ে, ঘর ভিজে যায়। এমনকি প্রকৃতিও যেন বদলে গেছে।

তার অ্যাপার্টমেন্টটি ছিল তার জীবনের কেন্দ্র—সেখানে তিনি ২০০৪ সাল থেকে বাস করছিলেন। রান্নাঘরে পরিবার একসঙ্গে সময় কাটাত। সেই ভবনটি এক হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তিনি প্রায় ঋণ শোধ করে ফেলেছিলেন। তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু এক মুহূর্তে সব শেষ হয়ে যায়।

ছিন্নভিন্ন পরিবার, হারিয়ে যাওয়া মানুষ
সামাহের মুসলেহ, ৪৯ বছর বয়সী এক নারী, এখন একটি তাঁবুতে বাস করেন। একসময় তার সবকিছু ছিল—পরিবার, ঘর, স্বাভাবিক জীবন। এখন তার সন্তানদের মধ্যে একজন নিহত, একজন নিখোঁজ।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার ছোট মেয়ে মারিয়াম বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয়। শরীরে শেলের তিনটি টুকরো ঢুকে যায়। অনেক কষ্টে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তার বড় ছেলে নাবিল, যিনি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, একদিন বাবাকে দেখতে গিয়ে গুলিতে নিহত হন। আরেক ছেলে জাবের খাবারের সন্ধানে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি।

New UN report: Impacts of war have set back development in Gaza by as much  as 69 years | United Nations Development Programme

নিখোঁজ হওয়ার এই অভিজ্ঞতা গাজায় নতুন। কেউ জানে না তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, হাসপাতালগুলো ভেঙে পড়েছে, মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে।

মুসলেহ তার ছেলেকে খুঁজতে সব জায়গায় যোগাযোগ করেছেন—আত্মীয়স্বজন, বিভিন্ন সংস্থা—কিন্তু কোনো নিশ্চিত খবর পাননি।

অস্থায়ী জীবনই স্থায়ী হয়ে উঠছে
গাজায় এখন তাঁবুর শহর গড়ে উঠেছে। শিবিরগুলোর নাম রাখা হয়েছে—মর্যাদা, প্রত্যাবর্তন, জীবন। অস্থায়ী আশ্রয়গুলো ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে উঠছে।

বাজারে খাবার আছে, কিন্তু দাম বেশি। সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ নেই। শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ।

মানুষ কাজ করার চেষ্টা করে, ছোটখাটো উপায়ে আয় করে। কিন্তু জীবন অনিশ্চিত।

যুদ্ধ এখন প্রতিদিনের বাস্তবতা
গাজায় যুদ্ধ এখন শুধু বোমা হামলা নয়—এটি প্রতিদিনের জীবনের অংশ। পানি সংগ্রহ, ফোন চার্জ, আগুনে রান্না—সবই সংগ্রাম।

মানুষ এখন এক অচেনা জীবনে বাস করছে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কোনো পথ নেই।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই মানুষগুলো কীভাবে তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠবে? কীভাবে আবার জীবন গড়বে? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই।

এই যুদ্ধ তাদের ভেতরে থেকে যাবে, যেমন অতীতের যুদ্ধ আগের প্রজন্মের ভেতরে রয়ে গেছে।

গাজায় মানুষ বেঁচে আছে, কিন্তু তারা আর আগের জীবনে ফিরতে পারবে না। তারা শিখছে—এই মাঝামাঝি অবস্থাতেই কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়।