নিজের অবস্থানে কঠোর ইরান
শান্তি আলোচনা ঘিরে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—কোনো চাপ বা একতরফা শর্তে তারা রাজি নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, আলোচনার অগ্রগতি পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ন্যায্য অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেয় কি না তার ওপর।
এই অবস্থান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ইরান আপসের পথে হাঁটতে রাজি হলেও তা হবে নিজেদের শর্তে, কোনোভাবেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নয়।
আলোচনার মূল ইস্যু
বাঘাই জানান, আলোচনায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুরো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের দাবি।
এসব ইস্যুতে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার—তারা শুধু যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায়, যেখানে তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ নিশ্চিত হবে।

ইসরায়েলের অবস্থান
এই আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নেয়নি। যুদ্ধবিরতির পর থেকে তারা ইরানে নতুন হামলা না চালালেও লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন সুর
আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। আলোচনায় প্রতিনিধিত্বকারী ভ্যান্স যখন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করছিলেন, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অন্য একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হোক বা না হোক, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে বিজয়ী হিসেবেই দেখছে। তিনি দাবি করেন, সামরিকভাবে ইরানকে ইতোমধ্যে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, আলোচনা এখনো অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে এবং উভয় পক্ষের অবস্থান দূরত্বে থাকায় দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















