মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর পড়ছে। গালফ দেশগুলোতে পর্যটন, নির্মাণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ায় হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। অনেকে মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না এবং বহু প্রত্যাশী কর্মী দেশ ছাড়তেই পারছেন না। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সাত বাংলাদেশি নিহত, হাজারো জীবিকাহীন
যুদ্ধের কারণে আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন ও লেবাননে কমপক্ষে সাত বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। লেবাননে বাংলাদেশি প্রবাসী নেতা আব্দুল করিম জানান, সেখানে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি চাকরি হারিয়েছেন এবং অনেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বেতন নেই, দেশে টাকা পাঠানো বন্ধ
বৈরুতের উপকণ্ঠে নির্মাণশ্রমিক রিপন বেপারি জানান, ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেতন পাননি। মাত্র ৩০০ ডলার সঞ্চয়ে দিন পার করছেন। নেত্রকোণার পরিবারে টাকা পাঠাতে পারছেন না। কুয়েতে ট্যাক্সি চালানো প্রবাসী মো. ইমন বলেন, আগে মাসে ২০০-৩০০ কুয়েতি দিনার আয় হতো, এখন ১০০ দিনারও হচ্ছে না।
বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত কমছে
বিএমইটির তথ্যমতে, জানুয়ারিতে ৯৫,০৯৫ জনের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, ফেব্রুয়ারিতে তা ৬৫,৬৩৪ এবং মার্চে ৪৪,৬৬১ এ নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ৭০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন, যারা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৬০ শতাংশ পাঠান। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















