নেপালে মাউন্ট এভারেস্টকে কেন্দ্র করে ২ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ২৪০ কোটি টাকা) মূল্যের বিশাল বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। ৮ বছরের তদন্ত শেষে পুলিশ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, যাদের মধ্যে শেরপা গাইড, হেলিকপ্টার কোম্পানির মালিক, হাসপাতালের চিকিৎসক এবং ট্রেকিং এজেন্সির কর্মকর্তারা রয়েছেন।
কীভাবে চলত এই জালিয়াতি?
কাঠমান্ডু পোস্টের তদন্তে উঠে এসেছে, গাইডরা পর্যটকদের খাবারে বেকিং পাউডার ও বাড়তি ওষুধ মেশাতেন যা হাই অলটিচিউড সিকনেসের লক্ষণ তৈরি করত। এরপর পর্যটক অসুস্থ হলে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধার দেখানো হতো এবং বিদেশি বিমা কোম্পানির কাছে মিথ্যা দাবি করা হতো। কখনো একটি ফ্লাইটে একাধিক আরোহী থাকলেও আলাদা আলাদা দাবি করা হতো। জাল মেডিকেল রিপোর্ট ও ফ্লাইট রেকর্ড তৈরি করা হতো।
তবে নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিআইবি) স্পষ্ট করেছে, আনুষ্ঠানিক তদন্তে খাবারে ‘বিষ’ মেশানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিমা জালিয়াতির ঘটনাটি নিশ্চিত, কিন্তু বিষ প্রয়োগের দাবি এখনো প্রমাণিত নয়।

৪,৭৮২ বিদেশি পর্যটক ক্ষতিগ্রস্ত
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ৪,৭৮২ জন আন্তর্জাতিক পর্যটক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কোম্পানিভেদে একটি হেলিকপ্টার উদ্ধার সংস্থার বিরুদ্ধেই ১ কোটি ডলারের বেশি মিথ্যা বিমা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
পুরনো কেলেঙ্কারি, নতুন মাথাচাড়া
কাঠমান্ডু পোস্ট ২০১৮ সালেই এই কেলেঙ্কারি প্রথম প্রকাশ করে। তৎকালীন সরকার তদন্ত করে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ঘটনা থামেনি। বরং পরবর্তী বছরগুলোতে কেলেঙ্কারির পরিধি আরও বাড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















