০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত আশা ভোঁসলের কণ্ঠে তেলুগু গানের স্মৃতি, সীমিত কাজেও অমর ছাপ স্যামসাং গ্যালাক্সি বাডস ৪ প্রো: প্রিমিয়াম ইয়ারবাডে নতুন মানদণ্ড, কিন্তু সবার জন্য নয় ছয় মাসে এক ইনজেকশনেই নিয়ন্ত্রণে উচ্চ রক্তচাপ, নতুন গবেষণায় আশার আলো চাঁদ ঘিরে বিশাল রিং নির্মাণের স্বপ্ন: জাপানি কোম্পানির সাহসী মহাকাশ পরিকল্পনা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে পেট্রোডলার ব্যবস্থা হাম আতঙ্কে দেশে নতুন ৭ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে সুপার এল নিনো সতর্কতা: ১৯৫০-এর পর মাত্র পাঁচবার, আবার কি আসছে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি? হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর প্রাসঙ্গিক নন: দিল্লিতে বার্তা দিলেন উপদেষ্টা হুমায়ুন

তেলের আসল দাম কোনটি: বাজারে বিভ্রান্তি, বাস্তবে সংকট আরও গভীর

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে তথ্য আমরা সাধারণত দেখি, তা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে কাগুজে দাম ও বাস্তব লেনদেনের দামের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

কাগুজে দাম বনাম বাস্তব দাম

অনলাইনে বা সংবাদে যে তেলের দাম বেশি আলোচিত হয়, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের মূল্য। এই দাম নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে তেলের সম্ভাব্য চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব ধরে। ফলে এটি অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো আচরণ করে।

কিন্তু বাস্তবে যদি এখনই তেল কিনতে হয়, তখন যে দাম দিতে হয় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১০৯ ডলার দেখানো হলেও, জাহাজে করে সরাসরি তেল কেনার বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ এবং যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

কেন বাড়ছে এই ব্যবধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার বর্তমান সংকটকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না। বাস্তবে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেক বেশি গুরুতর।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে পড়ে আছে।

The price of Oil continues to rise

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার কিছু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, আর অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি হলেও সংকট কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তব বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। ভবিষ্যৎ বাজারের দামের ওপর নির্ভর করলে এই সংকটের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে দিনাজপুর মেডিক্যালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি, জরুরি সেবায় ব্যাঘাত

তেলের আসল দাম কোনটি: বাজারে বিভ্রান্তি, বাস্তবে সংকট আরও গভীর

০৬:১০:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে যে তথ্য আমরা সাধারণত দেখি, তা অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে কাগুজে দাম ও বাস্তব লেনদেনের দামের মধ্যে বিশাল ফারাক তৈরি হয়েছে।

কাগুজে দাম বনাম বাস্তব দাম

অনলাইনে বা সংবাদে যে তেলের দাম বেশি আলোচিত হয়, তা মূলত ভবিষ্যৎ বাজারের মূল্য। এই দাম নির্ধারিত হয় ভবিষ্যতে তেলের সম্ভাব্য চাহিদা ও সরবরাহের হিসাব ধরে। ফলে এটি অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো আচরণ করে।

কিন্তু বাস্তবে যদি এখনই তেল কিনতে হয়, তখন যে দাম দিতে হয় তা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ১০৯ ডলার দেখানো হলেও, জাহাজে করে সরাসরি তেল কেনার বাজারে সেই দাম প্রায় ১৪৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ এবং যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

কেন বাড়ছে এই ব্যবধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যৎ বাজার বর্তমান সংকটকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে পারছে না। বাস্তবে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা অনেক বেশি গুরুতর।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধান কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে পড়ে আছে।

The price of Oil continues to rise

বিশ্বজুড়ে প্রভাব

এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে পড়তে শুরু করেছে। এশিয়ার কিছু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি না থাকায় গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, আর অনেক দেশ দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি হলেও সংকট কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। জাহাজ কোম্পানিগুলো এখনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ফলে তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান বাজার

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তব বাজারের দামই প্রকৃত সংকটের চিত্র তুলে ধরছে। ভবিষ্যৎ বাজারের দামের ওপর নির্ভর করলে এই সংকটের গভীরতা বোঝা সম্ভব নয়। তাদের মতে, বাজারের এই অস্বাভাবিক ব্যবধান সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড়।