মালাক্কা প্রণালীতে গভীর রাতে একটি মাছ ধরার ট্রলারে আগুন লাগার ঘটনায় তিন জেলের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচজন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চললেও নিখোঁজদের খোঁজ মেলেনি, ফলে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
ঘটনাটি ঘটে এপ্রিলের ৭ তারিখ ভোররাতে। ‘কেএম সুম্বের ইন্দাহ টু’ নামের ট্রলারটি ২১ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ ধরছিল। আগের দিন বিকেলে বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পর নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে তারা জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্রামের সময় হঠাৎ ট্রলারের ইঞ্জিন কক্ষে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠার কারণে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ইঞ্জিনের কাছে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেও আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। এই ধারাবাহিক বিস্ফোরণেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ট্রলারে।
প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় জেলেরা প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দেন। প্রায় আধাঘণ্টা পর কাছাকাছি থাকা আরেকটি ট্রলার এসে ১৩ জনকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে তিনজনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দুইজনের শরীরে সামান্য দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন ইয়ন, জাহার ও বুইতিন। আহত ও উদ্ধার হওয়া জেলেদের বন্দর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিখোঁজদের খোঁজে অভিযান
নিখোঁজ পাঁচজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—আরিস, রয়, লুবিস ও আম্বন। আরেকজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। নৌবাহিনী ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে সমুদ্রে তল্লাশি চালাচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত খোঁজ চালানো হবে।
তদন্তে নতুন তথ্য

দুর্ঘটনার আগে এক ক্রু সদস্য ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলেন এবং অন্যদের সতর্ক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সতর্কবার্তা দেওয়ার আগেই বিস্ফোরণ ঘটে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। জীবিত জেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অতীতের আগুনের ঘটনা
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই অঞ্চলের একটি মাছ ধরার নৌকায় আগুন লাগে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল। সেই সময় জ্বালানি পূর্ণ থাকায় আগুন নেভাতে আরও বেশি বেগ পেতে হয়েছিল।
বর্তমান ঘটনার পর আবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















