ভারতে মার্চ মাসে খুচরা মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩.২১ শতাংশ। মূলত কিছু খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে। তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার নিচেই রয়েছে।
খাদ্যপণ্যের দামে বাড়তি চাপ
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৮৭ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩.৪৭ শতাংশ। বিশেষ করে টমেটো, ফুলকপি, নারকেলজাত পণ্য এবং সোনা-রুপার গয়নার দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে পেঁয়াজ, আলু, রসুন, ডাল এবং ছোলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে পতন হয়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
জ্বালানি ও বাসস্থানে প্রভাব
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি মার্চে বেড়ে হয়েছে ১.৬৫ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ১.৫২ শতাংশ। একই সময়ে বাসস্থানের খরচ বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ২.১১ শতাংশ।
গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। গ্রামে মূল্যস্ফীতি ৩.৬৩ শতাংশ হলেও শহরে তা তুলনামূলক কম, ৩.১১ শতাংশ।
![]()
রাজ্যভেদে মূল্যস্ফীতির চিত্র
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মূল্যস্ফীতির হারেও বড় পার্থক্য দেখা গেছে। মার্চ মাসে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল তেলেঙ্গানায় ৫.৮৩ শতাংশ। অন্যদিকে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে মিজোরামে, যেখানে হার মাত্র ০.৬৬ শতাংশ।
এই রাজ্যভিত্তিক পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারদর ও সরবরাহ পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও সমান নয়।
বৈশ্বিক প্রভাব ও নীতিগত অবস্থান
অর্থনীতিবিদদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে কিছু চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে। বিশেষ করে গ্যাস ও বিকল্প জ্বালানির দামে এই প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে সরকার জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখার নীতিতে অবিচল থাকায় বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে সহায়তা করে যাচ্ছে।
নতুন ভিত্তিবছর ও তথ্য সংগ্রহ
এই মূল্যস্ফীতির হিসাব নতুন ভিত্তিবছর ২০২৪ ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের ১,৪০০-র বেশি শহর এবং প্রায় ১,৫০০ গ্রাম থেকে সরাসরি বাজারদর সংগ্রহ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়, যা সামগ্রিক অর্থনীতির একটি বাস্তবচিত্র তুলে ধরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















