১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙে ফিরছেন অভিবাসীরা, ক্ষুধা-হতাশায় সিউটা ছাড়ছে হাজারো মানুষ শুধু অনুদান নয়, টেকসই সংগীতশিল্প গড়তে বদলাতে হবে পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো স্ট্রোক: প্রতিরোধ, দ্রুত চিকিৎসা ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের এক অবিচ্ছিন্ন লড়াই চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি

ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ‘বিপজ্জনক’, উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা: চীনের কড়া সতর্কতা

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 40

ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও করেছে বেইজিং। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

অবরোধে বাড়ছে উত্তেজনা

সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজ লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দেয় এবং অবরোধ কার্যকর করে।
যদিও এর কয়েকদিন আগেই দুই দেশ একটি অস্থায়ী দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেই চুক্তিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।
চীনের নেতৃত্বও স্পষ্ট করে বলেছে, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

হরমুজ প্রণালীতে চাপ

ইরান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করেছে। দেশটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র তাদের মিত্র বা বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজই এই পথে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বের মোট তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

China calls US blockade of Iran ports 'dangerous and irresponsible' | The  Daily Star

অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের মূল লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক প্রবাহ বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কারণ, চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা।
এদিকে, ইরান এই অবরোধকে তাদের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

নতুন বাণিজ্য সংঘাতের ইঙ্গিত

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি। ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীনের পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের বন্দর অবরোধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা বাড়ছে, হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি ও বৈশ্বিক তেল বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের স্বপ্ন ভেঙে ফিরছেন অভিবাসীরা, ক্ষুধা-হতাশায় সিউটা ছাড়ছে হাজারো মানুষ

ইরানের বন্দর অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ‘বিপজ্জনক’, উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা: চীনের কড়া সতর্কতা

০৬:০৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার অঙ্গীকারও করেছে বেইজিং। সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

অবরোধে বাড়ছে উত্তেজনা

সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজ লক্ষ্য করে কঠোর হুমকি দেয় এবং অবরোধ কার্যকর করে।
যদিও এর কয়েকদিন আগেই দুই দেশ একটি অস্থায়ী দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, এই পদক্ষেপ সেই চুক্তিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু উত্তেজনা বাড়ায় না, বরং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।
চীনের নেতৃত্বও স্পষ্ট করে বলেছে, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

হরমুজ প্রণালীতে চাপ

ইরান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করেছে। দেশটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র তাদের মিত্র বা বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জাহাজই এই পথে চলাচল করতে পারবে।
বিশ্বের মোট তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে উত্তেজনা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

China calls US blockade of Iran ports 'dangerous and irresponsible' | The  Daily Star

অর্থনৈতিক চাপ ও কূটনৈতিক বার্তা

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের মূল লক্ষ্য ইরানের অর্থনৈতিক প্রবাহ বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কারণ, চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা।
এদিকে, ইরান এই অবরোধকে তাদের সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

নতুন বাণিজ্য সংঘাতের ইঙ্গিত

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকি। ইরানকে সামরিক সহায়তা দিলে চীনের পণ্যের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও, সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের বন্দর অবরোধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা বাড়ছে, হরমুজ প্রণালীতে ঝুঁকি ও বৈশ্বিক তেল বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা।