১০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’ আমির খান জুলাই ৫-এর বিয়ের কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন: ‘মনে মনে আগেই বিয়ে করেছিলাম’ ‘রাখ’ আমাজন প্রাইমে আসছে কাল: ১৯৭৮-এর কুখ্যাত রঙা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলী ফাজালের গ্রিপিং ক্রাইম থ্রিলার বলিউডের এ বছরের মেগাহিট ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এখন JioHotstar-এ, ১,৮৫২ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’: বরুণ ধাওয়ান-পূজা হেগড়ে-মৃণাল ঠাকুরের রোমকম ৩১ কোটি ছাড়াল রাম চরণের ‘পেড্ডি’ প্রথম সপ্তাহে ২৬২ কোটি রুপি, আরআরআর-এর পর তাঁর সর্বোচ্চ সংগ্রহ BTS, শাকিরা, ম্যাডোনা ও কোল্ডপ্লে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো-তে — ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু আজ: ৪৮ দল, ১০৪ ম্যাচ, তিন দেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট শাকিরা আজ মেক্সিকোতে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে ৮৭,০০০ দর্শকের সামনে ‘ডাই ডাই’ পরিবেশন করবেন জুলাই যোদ্ধা মাহদী হাসানকে মারধর করল জনতা, হাসপাতালে ভর্তি

বলিউডে মুঘল ইতিহাসের বদলে যাওয়া মুখ: রাজনীতি, সমাজ আর সিনেমার নতুন পাঠ

ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে মুঘল সাম্রাজ্যের উপস্থাপন একসময় ছিল ঐতিহ্য, প্রেম আর সহাবস্থানের গল্প। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বদলেছে দেশের রাজনীতি, সমাজ আর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি—আর সেই পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে বলিউডের পর্দায়।

স্বাধীনতার লড়াই থেকে সিনেমার উত্থান
১৯৪০-এর দশকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই সময়ে নির্মিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রগুলো একদিকে যেমন উপনিবেশিক দুঃসময়ের বিপরীতে দেশের গৌরবময় অতীতকে তুলে ধরত, অন্যদিকে দর্শকদের জন্য ছিল একধরনের স্বপ্নময় পালাবার পথ।
১৯৪৪ সালে নির্মিত ‘শাহেনশাহ বাবর’ ছিল প্রথম মুঘল সম্রাটকে ঘিরে একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, যা ইতিহাসকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

স্বাধীনতার পর সহাবস্থানের গল্প
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত এক নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসতে মুঘল ইতিহাসকে দেখা হয়েছিল সহাবস্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে।
এই সময়কার চলচ্চিত্রগুলোতে মুঘল শাসকদের ন্যায়পরায়ণ ও উদার রূপ তুলে ধরা হয়। ‘আদল-ই-জাহাঙ্গীর’-এর মতো সিনেমায় জাহাঙ্গীরকে একজন ন্যায়বিচারক হিসেবে দেখানো হয়। আবার ‘বাইজু বাওরা’-র মতো চলচ্চিত্রে আকবরের দরবারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। এই সময়ে ‘সুলহ-ই-কুল’ বা সার্বজনীন শান্তির ধারণা ছিল সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

Tanhaji: The Unsung Warrior' :Sharad Kelkar's first look as Chhatrapati  Shivaji Maharaj leaves internet impressed | Hindi Movie News - Times of  India

রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে সিনেমায়। ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে নির্মিত কিছু চলচ্চিত্রে মুঘল চরিত্রগুলোকে আরও জটিলভাবে দেখানো হয়।
১৯৬৭ সালের ‘নূরজাহান’-এ জাহাঙ্গীরের স্ত্রীকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কঠোর চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় দেশে যে কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিফলনও চলচ্চিত্রের উপস্থাপনায় দেখা যায়।

অর্থনৈতিক উত্থান ও বিলাসিতার মুঘল চিত্র
১৯৮০-এর পর ভারতের অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে ভোগবাদী সংস্কৃতি বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায় ২০০৮ সালের ‘জোধা আকবর’-এর মতো চলচ্চিত্রে, যেখানে মুঘল সাম্রাজ্যের জৌলুস, সোনা-রত্ন আর ঐশ্বর্যকে বিশাল আকারে উপস্থাপন করা হয়।
তবে এই ধরনের চলচ্চিত্র শুধু বিলাসিতা নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

Tanhaji: The Unsung Warrior (India) - In conversation with Ajay Devgan -  Golden Globes

বর্তমান সময়ে বিতর্কিত মুঘল ইতিহাস
বর্তমানে ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মুঘল ইতিহাস নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অনেক চলচ্চিত্রে মুঘল শাসকদের আর নায়ক হিসেবে দেখানো হয় না, বরং তাদেরকে আক্রমণকারী বা খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
‘পানিপথ’ বা ‘তানহাজি’-র মতো সিনেমায় মারাঠাদের বীরত্ব এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতিহাসের এই অধ্যায় এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

ইতিহাস থেকে বর্তমানের শিক্ষা
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পাঁচশ বছর পূর্তিকে ঘিরে এখন একদিকে যেমন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আলোচনা চলছে, অন্যদিকে অতীতের জন্য প্রতিশোধের দাবিও উঠে আসছে।
এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে, ইতিহাস শুধু অতীত নয়—বরং বর্তমান রাজনীতি ও সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’

বলিউডে মুঘল ইতিহাসের বদলে যাওয়া মুখ: রাজনীতি, সমাজ আর সিনেমার নতুন পাঠ

০৩:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে মুঘল সাম্রাজ্যের উপস্থাপন একসময় ছিল ঐতিহ্য, প্রেম আর সহাবস্থানের গল্প। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বদলেছে দেশের রাজনীতি, সমাজ আর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি—আর সেই পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে বলিউডের পর্দায়।

স্বাধীনতার লড়াই থেকে সিনেমার উত্থান
১৯৪০-এর দশকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই সময়ে নির্মিত ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রগুলো একদিকে যেমন উপনিবেশিক দুঃসময়ের বিপরীতে দেশের গৌরবময় অতীতকে তুলে ধরত, অন্যদিকে দর্শকদের জন্য ছিল একধরনের স্বপ্নময় পালাবার পথ।
১৯৪৪ সালে নির্মিত ‘শাহেনশাহ বাবর’ ছিল প্রথম মুঘল সম্রাটকে ঘিরে একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, যা ইতিহাসকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

স্বাধীনতার পর সহাবস্থানের গল্প
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত এক নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ক্ষত থেকে বেরিয়ে আসতে মুঘল ইতিহাসকে দেখা হয়েছিল সহাবস্থান ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে।
এই সময়কার চলচ্চিত্রগুলোতে মুঘল শাসকদের ন্যায়পরায়ণ ও উদার রূপ তুলে ধরা হয়। ‘আদল-ই-জাহাঙ্গীর’-এর মতো সিনেমায় জাহাঙ্গীরকে একজন ন্যায়বিচারক হিসেবে দেখানো হয়। আবার ‘বাইজু বাওরা’-র মতো চলচ্চিত্রে আকবরের দরবারের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ফুটে ওঠে। এই সময়ে ‘সুলহ-ই-কুল’ বা সার্বজনীন শান্তির ধারণা ছিল সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

Tanhaji: The Unsung Warrior' :Sharad Kelkar's first look as Chhatrapati  Shivaji Maharaj leaves internet impressed | Hindi Movie News - Times of  India

রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে সিনেমায়। ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে নির্মিত কিছু চলচ্চিত্রে মুঘল চরিত্রগুলোকে আরও জটিলভাবে দেখানো হয়।
১৯৬৭ সালের ‘নূরজাহান’-এ জাহাঙ্গীরের স্ত্রীকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কঠোর চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় দেশে যে কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার প্রতিফলনও চলচ্চিত্রের উপস্থাপনায় দেখা যায়।

অর্থনৈতিক উত্থান ও বিলাসিতার মুঘল চিত্র
১৯৮০-এর পর ভারতের অর্থনীতি উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমাজে ভোগবাদী সংস্কৃতি বাড়তে থাকে। এই পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যায় ২০০৮ সালের ‘জোধা আকবর’-এর মতো চলচ্চিত্রে, যেখানে মুঘল সাম্রাজ্যের জৌলুস, সোনা-রত্ন আর ঐশ্বর্যকে বিশাল আকারে উপস্থাপন করা হয়।
তবে এই ধরনের চলচ্চিত্র শুধু বিলাসিতা নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

Tanhaji: The Unsung Warrior (India) - In conversation with Ajay Devgan -  Golden Globes

বর্তমান সময়ে বিতর্কিত মুঘল ইতিহাস
বর্তমানে ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে মুঘল ইতিহাস নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক অনেক চলচ্চিত্রে মুঘল শাসকদের আর নায়ক হিসেবে দেখানো হয় না, বরং তাদেরকে আক্রমণকারী বা খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
‘পানিপথ’ বা ‘তানহাজি’-র মতো সিনেমায় মারাঠাদের বীরত্ব এবং মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতিহাসের এই অধ্যায় এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে।

ইতিহাস থেকে বর্তমানের শিক্ষা
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পাঁচশ বছর পূর্তিকে ঘিরে এখন একদিকে যেমন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আলোচনা চলছে, অন্যদিকে অতীতের জন্য প্রতিশোধের দাবিও উঠে আসছে।
এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে, ইতিহাস শুধু অতীত নয়—বরং বর্তমান রাজনীতি ও সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।