বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব ও জুলাই আন্দোলনের কর্মী হিসেবে পরিচিত মাহদী হাসানকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে একদল মানুষের হাতে তিনি মারধরের শিকার হন বলে জানা গেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে আলোচিত একটি ঘটনার কারণে পরিচিত হয়ে ওঠা মাহদী হাসান আবারও জনচর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।
ডিসি অফিস চত্বরে ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, বুধবার তার ওপর হামলার চেষ্টার একটি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের জন্য মাহদী হাসান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন। সেই আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বৃহস্পতিবার তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদন জমা দিয়ে ফেরার পথে কার্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর একদল ব্যক্তি তাকে মারধর করে। হামলায় আহত হলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংগঠনের অভিযোগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক আলমগীর হাসান আবিদ বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মাহদী হাসানের ওপর হামলার চেষ্টা চলছিল। বুধবারের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পর তার ওপর হামলা হয়।
তার দাবি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং মাহদীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়েছে।
পুলিশ কী বলছে
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আহত মাহদী হাসানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আগেও আলোচনায় ছিলেন মাহদী
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানাকেন্দ্রিক একটি ঘটনায় মাহদী হাসানকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন।
সাম্প্রতিক এই মারধরের ঘটনার পর তাকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। হামলার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় জানতে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















