নাটোর ও রাজশাহীর মধ্যে বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা সন্ধ্যা পর্যন্তও স্বাভাবিক হয়নি। এতে শুধু দুই জেলার যোগাযোগই নয়, আশপাশের বিভিন্ন রুটেও প্রভাব পড়েছে।
দ্বন্দ্বের সূত্রপাত কোথায়
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নাটোর ও রাজশাহীর মালিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন করে মাথাচাড়া দেয় একটি বাস পরিচালনা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি ও রুট না মেনে একটি বাস চলাচল করছিল, যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয় অন্য মালিকদের মধ্যে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বাস আটকে দেওয়ার অভিযোগ তোলে। রাজশাহীগামী বাস নাটোরে প্রবেশ করতে পারছে না—এমন অভিযোগ ওঠার পর পাল্টা অভিযোগ আসে যে নাটোরের বাস রাজশাহীতে আটকে রাখা হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনা
রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, নিয়ম ভেঙে বাস চলাচলের কারণে যাত্রী সংকট তৈরি হয়েছে এবং বারবার সতর্ক করার পরও সংশ্লিষ্টরা তা মানেননি। এমনকি রাজশাহীর বাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
অন্যদিকে নাটোরের বাস মালিকদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজশাহীতেই নাটোরের বেশ কয়েকটি বাস আটকে রাখা হয়েছে, ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
একাধিক রুটে স্থবিরতা
এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে। নাটোর হয়ে রংপুর বিভাগ, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, ঢাকা ও খুলনা রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে।
নাটোরে ঢাকাগামী বাসের টিকিট কাউন্টারও বন্ধ রাখা হয়, ফলে রাজশাহী থেকেও অনেক যাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

যাত্রীদের দুর্ভোগ
রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, যাত্রীরা বিকল্প যানবাহনের খোঁজে ছুটছেন। কেউ ছোট গাড়ি, কেউবা অন্য রুটে ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। এতে সময় ও খরচ—দুইই বেড়েছে।
পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে যাত্রী ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাধানের অপেক্ষা
দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সমাধানের দাবি উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















