০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭ মসলাদার গরুর মাংসের টাকো বাটি যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ড্রোন ব্যবহারের পথ খুলল চীন, বদলাল প্রতিরক্ষা আইন বাংলাদেশের লাওয়াছড়ায় বনে ছেড়ে দেওয়া ৯ ধীরলোরির ৭টিই মারা গেল ঘরে দুই শিশুর নিথর দেহ, পাশে বাবার মরদেহ—যশোরে হৃদয়বিদারক ঘটনা নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে সব এফআইআর বাতিল সুপ্রিম কোর্টের বৃদ্ধার চোখে বিজয়ের দামি চশমা, মানবিকতায় মুগ্ধ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর ভক্ত নেপালের ভয়াবহ বন্যায় জলবায়ু সংকটের দায় এড়াচ্ছে পশ্চিমা গণমাধ্যম? হারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়েতে রাজতন্ত্রের সমর্থন বেড়ে ৭২ শতাংশ, নতুন রাজার শপথ গোপন তহবিলের নামে জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ নেই

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ, উজানের বৃষ্টিতে হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা—একসঙ্গে চাপে শহর ও কৃষক

বৈশাখের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। একদিকে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে একসঙ্গে বিপাকে পড়েছেন নগরের শ্রমজীবী মানুষ ও হাওরের কৃষকরা।

তাপপ্রবাহে অস্বস্তি, কিছুটা স্বস্তির আশ্বাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তাপপ্রবাহ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তাপমাত্রা সহনীয় সীমার মধ্যেই থাকলেও দিনের গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ, বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস - Bangla News

তাপমাত্রার চিত্র

রাজধানী ঢাকায় দিনভর রোদ আর গরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সিলেটে ছিল সবচেয়ে কম, প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

হাওরে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে খুব শিগগিরই আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি বাড়তে থাকলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাও বাড়তে পারে।

মাগুরায় পুড়ে গেছে প্রায় ১০ একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক

কৃষকদের জন্য সতর্ক বার্তা

এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব জমিতে ধান প্রায় পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। কারণ পানি ঢুকে পড়লে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জরুরি বৈঠক ও নির্দেশনা

হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠকে ধান রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পাশের এলাকা থেকে শ্রমিক ও যন্ত্র আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কৃষিখাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ফসল কাটায় কোনো বাধা না আসে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হলিউডের মোহ, লস অ্যাঞ্জেলেসের রোদ আর কুতুরের জাদুতে ডিওর ক্রুজ ২০২৭

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ, উজানের বৃষ্টিতে হাওরে আগাম বন্যার শঙ্কা—একসঙ্গে চাপে শহর ও কৃষক

১১:০০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

বৈশাখের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। একদিকে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে একসঙ্গে বিপাকে পড়েছেন নগরের শ্রমজীবী মানুষ ও হাওরের কৃষকরা।

তাপপ্রবাহে অস্বস্তি, কিছুটা স্বস্তির আশ্বাস

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তাপপ্রবাহ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তাপমাত্রা সহনীয় সীমার মধ্যেই থাকলেও দিনের গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ, বৃষ্টি নিয়ে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস - Bangla News

তাপমাত্রার চিত্র

রাজধানী ঢাকায় দিনভর রোদ আর গরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সিলেটে ছিল সবচেয়ে কম, প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

হাওরে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে খুব শিগগিরই আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পানি বাড়তে থাকলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাও বাড়তে পারে।

মাগুরায় পুড়ে গেছে প্রায় ১০ একর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক

কৃষকদের জন্য সতর্ক বার্তা

এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব জমিতে ধান প্রায় পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। কারণ পানি ঢুকে পড়লে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

জরুরি বৈঠক ও নির্দেশনা

হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠকে ধান রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পাশের এলাকা থেকে শ্রমিক ও যন্ত্র আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কৃষিখাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ফসল কাটায় কোনো বাধা না আসে।