বৈশাখের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় তৈরি হয়েছে অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি। একদিকে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে একসঙ্গে বিপাকে পড়েছেন নগরের শ্রমজীবী মানুষ ও হাওরের কৃষকরা।
তাপপ্রবাহে অস্বস্তি, কিছুটা স্বস্তির আশ্বাস
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইছে। রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই তাপপ্রবাহ সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে তাপমাত্রা সহনীয় সীমার মধ্যেই থাকলেও দিনের গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

তাপমাত্রার চিত্র
রাজধানী ঢাকায় দিনভর রোদ আর গরমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সিলেটে ছিল সবচেয়ে কম, প্রায় ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি হলে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বৃষ্টি ও ঝড়ের পূর্বাভাস
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
হাওরে বাড়ছে উদ্বেগ
এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে খুব শিগগিরই আগাম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি বাড়তে থাকলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতাও বাড়তে পারে।

কৃষকদের জন্য সতর্ক বার্তা
এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেসব জমিতে ধান প্রায় পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে। কারণ পানি ঢুকে পড়লে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
জরুরি বৈঠক ও নির্দেশনা
হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারিভাবে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠকে ধান রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেখানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে, সেখানে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পাশের এলাকা থেকে শ্রমিক ও যন্ত্র আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কৃষিখাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ফসল কাটায় কোনো বাধা না আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















