প্রযুক্তি জগতে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মেটার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। কর্মীদের দৈনন্দিন কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই উদ্যোগে কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া, ক্লিক এবং কী-বোর্ডে টাইপ করা তথ্য পর্যন্ত সংগ্রহ করা হবে, যা ইতোমধ্যেই গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কীভাবে কাজ করবে নতুন ব্যবস্থা
মেটার অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন একটি টুল কর্মীদের কাজের সময় ব্যবহৃত অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে সক্রিয় থাকবে। এটি মাউস মুভমেন্ট, ক্লিক, টাইপিংসহ বিভিন্ন কার্যকলাপ রেকর্ড করবে এবং মাঝে মাঝে স্ক্রিনের দৃশ্যও ধারণ করবে। এই তথ্যগুলো ব্যবহার করে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা হবে, যা মানুষের মতো কম্পিউটার ব্যবহার শিখতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ড্রপডাউন মেনু ব্যবহার, শর্টকাট কী চাপা বা জটিল কাজের ধাপগুলো অনুকরণ করতে বর্তমানে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পিছিয়ে আছে। কর্মীদের বাস্তব কাজের তথ্য ব্যবহার করে এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এআই নির্ভর কর্মপরিকল্পনা
মেটা ইতোমধ্যেই তাদের কর্মপ্রবাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে অধিকাংশ কাজই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই এজেন্ট সম্পন্ন করবে এবং মানুষ কেবল নির্দেশনা ও তদারকি করবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর্মীদের এআই ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, এমনকি প্রাথমিকভাবে কাজের গতি কমলেও। পাশাপাশি কোম্পানির কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে নির্দিষ্ট পদের পরিবর্তে ‘এআই নির্মাতা’ ধরনের সাধারণ ভূমিকা চালু করা হচ্ছে।
ছাঁটাই ও পুনর্গঠনের ইঙ্গিত
প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও করছে। প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ এখন বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাধারণ হয়ে উঠছে।

গোপনীয়তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মীদের এই ধরনের নজরদারি নতুন নয়, তবে কিবোর্ডের প্রতিটি চাপ বা স্ক্রিন কার্যকলাপ রেকর্ড করা বিষয়টিকে আরও গভীর করেছে। এতে কর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে এবং কর্মপরিবেশের ভারসাম্য বদলে যেতে পারে।
কিছু দেশে এই ধরনের নজরদারি আইনগত বাধার মুখে পড়তে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইউরোপীয় অঞ্চলে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন এ ধরনের কার্যক্রমকে সীমিত করতে পারে।
কোম্পানির অবস্থান
মেটা জানিয়েছে, সংগৃহীত তথ্য কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হবে না। শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নত করার জন্যই এই ডেটা ব্যবহার করা হবে এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে বাস্তবে এই প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। প্রযুক্তি উন্নয়নের নামে কর্মীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত থাকবে—এ প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















