ইরান যুদ্ধ, জ্বালানি দামের চাপ এবং ধর্মীয় নেতৃত্বকে ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দেশের মানুষ। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার জনপ্রিয়তা আগের মতোই কম অবস্থায় স্থির থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার স্বভাব ও মানসিক স্থিতি নিয়ে উদ্বেগ।
জনপ্রিয়তা স্থির, অসন্তোষ বেশি
জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন মাত্র ৩৬ শতাংশে আটকে আছে। বিপরীতে ৬২ শতাংশ মানুষ তার পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট। এটি তার বর্তমান মেয়াদের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতে যেখানে তার সমর্থন ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ, সেখানে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ ইরানে মার্কিন সামরিক হামলাকে সমর্থন করেন। একই সঙ্গে, অনেকেই মনে করছেন এই যুদ্ধের আর্থিক ও সামাজিক খরচের তুলনায় লাভ কম।
স্বভাব ও মানসিক স্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
জরিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্পের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ নিয়ে জনমত। মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ তাকে শান্ত ও সংযত স্বভাবের বলে মনে করেন। এমনকি তার নিজের দলেও এ নিয়ে বিভাজন দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই আস্থা আরও কম।
গত এক বছরে তার মানসিক সক্ষমতা খারাপ হয়েছে বলে মনে করেন ৫১ শতাংশ আমেরিকান। এর মধ্যে রিপাবলিকানদের একটি অংশও এই মতের সঙ্গে একমত, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বিতর্কিত মন্তব্য ও আন্তর্জাতিক চাপ
সম্প্রতি ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিমূলক পোস্ট নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি কিংবা ধর্মীয় নেতাকে আক্রমণ—এসব বিষয় অনেকের কাছে তার আচরণকে অস্থির হিসেবে তুলে ধরেছে। এমনকি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পোপের জনপ্রিয়তা বেশি
জরিপে আরও দেখা গেছে, ধর্মীয় নেতা পোপের প্রতি মানুষের আস্থা ট্রাম্পের তুলনায় অনেক বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ পোপকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, যেখানে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৩৬ শতাংশ। এটি রাজনৈতিক ও নৈতিক নেতৃত্বের পার্থক্যও স্পষ্ট করে।

নেটো ও নিরাপত্তা ইস্যু
নেটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ধারণা খুব কম মানুষ সমর্থন করেন। মাত্র ১৬ শতাংশ এ ধরনের সিদ্ধান্তের পক্ষে। একইভাবে, ইরানে সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ করবে বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ।
অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার চাপ
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি মাত্র ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার জন্য আরেকটি নেতিবাচক সূচক।
এই পরিস্থিতিতে স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সংঘাত, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ এবং ব্যক্তিগত আচরণ—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে আমেরিকানদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















