ইরানকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ যত বাড়ছে, ততই বৈশ্বিক বাজারে নিরাপদ মুদ্রা হিসেবে ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এশিয়ার বাজারে লেনদেনের সময় ডলার এক পর্যায়ে এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার বদলে আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত থাকায় জ্বালানি রপ্তানির স্বাভাবিক প্রবাহ কখন ফিরবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই।
মুদ্রাবাজারে ডলারের অবস্থান
ডলার সূচক কিছুটা কমে এলেও দিনের শুরুতে এটি এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। ইউরো ও পাউন্ডের মতো প্রধান মুদ্রাগুলো প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল, যা দেখায় বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে অপেক্ষা ও সতর্কতার মনোভাব কাজ করছে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ও নিউজিল্যান্ড ডলার সামান্য শক্তিশালী হয়েছে। জাপানের রপ্তানি টানা সপ্তম মাসের মতো বাড়ায় ইয়েনও কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, যদিও উপসাগরীয় উত্তেজনা এর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি।

ইরানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বড় বাধা
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের ভেতরে কঠোর অবস্থান নেওয়া সামরিক গোষ্ঠী ও অপেক্ষাকৃত নমনীয় রাজনৈতিক অংশের মধ্যে দ্বন্দ্বই দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ক্ষমতার লড়াই মিটবে কীভাবে, সেটিই এখন বাজারের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
মার্কিন অর্থনীতি ও সুদের হার প্রসঙ্গ
মার্কিন অর্থনীতির শক্ত অবস্থানও ডলারকে সহায়তা করেছে। মার্চ মাসে খুচরা বিক্রি ১.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে ব্যয় বেড়েছে, একই সঙ্গে কর ফেরতের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে বাজারে চাহিদা বজায় থেকেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে আসতে যাওয়া একজন নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, সুদের হার কমানোর বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন, যা বাজারে কিছুটা কঠোর নীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার নিয়ে বক্তব্যের প্রভাব সীমিত ছিল। বরং তেলের দাম বৃদ্ধি ও ইরান সংশ্লিষ্ট খবরই ডলারের শক্তি বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বাজারের ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সুদের হার কমার সম্ভাবনা নিয়ে আগের চেয়ে কম আশাবাদী। অনেকেই মনে করছেন, নীতিগত শিথিলতা আসতে আরও সময় লাগতে পারে, এমনকি ২০২৭ সালের আগে বড় পরিবর্তন নাও আসতে পারে।
একই সময়ে বিকল্প বিনিয়োগ হিসেবেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে বিটকয়েন ও ইথারের দামও বেড়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বিনিয়োগকারীদের বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা দেখাচ্ছে।
মোটের ওপর, ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা, তেলের বাজারের অস্থিরতা এবং সুদের হার নিয়ে দ্বিধা—সব মিলিয়ে বৈশ্বিক বাজারে সতর্কতা ও উদ্বেগই এখন প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















