ভিডিও গেম দুনিয়ায় বড় কৌশলগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে মাইক্রোসফট। জনপ্রিয় সাবস্ক্রিপশন সেবা এক্সবক্স গেম পাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘কল অব ডিউটি’ সিরিজের নতুন গেম আর প্রকাশের দিনেই এই সেবায় পাওয়া যাবে না।
নতুন নেতৃত্বে কৌশল বদল
গেমিং বিভাগের নতুন প্রধান আশা শর্মার অধীনে এটিই প্রথম বড় সিদ্ধান্ত। সাম্প্রতিক সময়ে সাবস্ক্রিপশন মূল্য বৃদ্ধি, কনসোল বিক্রি কমে যাওয়া এবং আকর্ষণীয় গেমের অভাবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছিল মাইক্রোসফট। এই প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে নতুন কৌশল নেওয়া হয়েছে।
দাম কমিয়ে গ্রাহক টানার চেষ্টা
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক্সবক্স গেম পাস আলটিমেটের মাসিক মূল্য কমিয়ে ২২.৯৯ ডলার করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২৯.৯৯ ডলার। একইভাবে পিসি গেম পাসের দাম কমিয়ে ১৩.৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ১৬.৪৯ ডলার ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দাম বাড়ানোর কারণে অনেক ব্যবহারকারী সরে যাচ্ছিলেন, তাই দাম কমিয়ে তাদের ফেরানোর চেষ্টা করছে কোম্পানি।
‘কল অব ডিউটি’ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
এক সময় গেম পাসের বড় আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় ‘কল অব ডিউটি’ সিরিজ। মাইক্রোসফট যখন প্রায় ৬৯ বিলিয়ন ডলারে অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড অধিগ্রহণ করে, তখন এই গেমকে সামনে রেখে সাবস্ক্রিপশন বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু এখন সেই কৌশল থেকে সরে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন ‘কল অব ডিউটি’ গেম আর প্রকাশের দিনেই গেম পাসে যুক্ত হবে না। বরং বাজারে আসার প্রায় এক বছর পর এই গেমগুলো প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে।
চাপে এক্সবক্স, প্রতিদ্বন্দ্বীদের এগিয়ে যাওয়া
গেমিং বাজারে সনি ও নিন্টেন্ডোর শক্ত প্রতিযোগিতার মুখে এক্সবক্স ব্র্যান্ড কিছুটা চাপে রয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এবং জনপ্রিয় নতুন গেমের অভাব পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

এর মধ্যেই নেতৃত্বে পরিবর্তন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিদায় এবং অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
ভবিষ্যৎ পথ খুঁজছে মাইক্রোসফট
নতুন প্রধান আশা শর্মা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন, গেম পাস অনেক ব্যবহারকারীর কাছে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল। তাই এখন দাম কমানো এবং কনটেন্ট কৌশলে পরিবর্তনের মাধ্যমে বাজারে নতুন করে জায়গা করে নিতে চাইছে মাইক্রোসফট।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন সফল হলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে, তবে ‘কল অব ডিউটি’ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















