৮০ বছর বয়সে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও থামার কোনো লক্ষণ নেই ব্রিটিশ অভিনেত্রী জোয়ানা লামলির জীবনে। বরং কাজ, ভ্রমণ, সম্পর্ক আর জীবনের প্রতি তার গভীর ভালোবাসাই যেন তাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বয়স তার কাছে কোনো বাধা নয়, বরং এক নতুন অভিজ্ঞতার দরজা।
নিজেকে নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ সহজ এবং স্বাভাবিক। তিনি মনে করেন, সুন্দর দেখানোর চেষ্টা করা উচিত, তবে সেটাকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দু বানানো উচিত নয়। তরুণ বয়সে মডেলিং করার সময় নানা রকম সাজগোজের কৌশল শিখলেও এখন তিনি বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে স্বাভাবিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
জন্মদিন নিয়ে ভিন্ন ভাবনা
অনেকেই বয়স বাড়াকে বড় কোনো উপলক্ষ হিসেবে দেখেন। কিন্তু জোয়ানা লামলির কাছে জন্মদিন তেমন কোনো বড় বিষয় নয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি জন্মদিনকে খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। এবার ৮০ পূর্ণ করলেও দিনটি তিনি উদযাপনের চেয়ে কাজেই কাটাতে চান। শুটিংয়ের মধ্যেই তার জন্মদিন চলে যাবে, আর সেটাই তাকে বেশি আনন্দ দেয়।

কাজের প্রতি অটুট ভালোবাসা
বয়স বাড়লেও কাজের প্রতি তার আগ্রহ একটুও কমেনি। বরং তিনি মনে করেন, এখনকার সময়ে ৮০ বছর বয়সেও কাজ করা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্রমণভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, রেডিও অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও সম্পর্ক
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বামী স্টিফেন বার্লোর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও দৃঢ়। বন্ধুত্ব, ভালোবাসা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্ক তার জীবনের অন্যতম শক্তি। কাজের পাশাপাশি এই সম্পর্ক তাকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে।
জীবন ও মৃত্যুকে একসঙ্গে দেখা
জোয়ানা লামলি মৃত্যুকে ভয় পান না। বরং তিনি মনে করেন, জন্ম, জীবন আর মৃত্যু—সবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি প্রতিদিনই মৃত্যুর কথা ভাবেন, কারণ তা তাকে জীবনের মূল্য আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। তার কাছে মৃত্যু কোনো ভয়ঙ্কর বিষয় নয়, বরং জীবনের স্বাভাবিক পরিণতি।
তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষ যখন জীবনের কষ্টে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন শান্তভাবে বিদায় নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এই বিষয়ে তার অবস্থানও বেশ স্পষ্ট—মানুষের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।
সমাজ ও মানবিকতার বার্তা
মানুষের প্রতি সহানুভূতি আর দয়া দেখানো জরুরি—এই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষের বিরোধিতা করে তিনি বলেছেন, কেউ নিজের দেশ ছেড়ে যেতে চায় না। বাধ্য হয়েই মানুষ অন্যত্র আশ্রয় নেয়, তাই তাদের প্রতি মানবিক হওয়াই উচিত।

বয়স নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব
জোয়ানা লামলির সবচেয়ে বড় শক্তি তার ইতিবাচক মনোভাব। তিনি সবসময়ই বয়স বাড়ার অপেক্ষায় ছিলেন। ৮০ বছর পার করেও তার লক্ষ্য থেমে নেই—তিনি আশাবাদী, আরও অনেক বছর বেঁচে থেকে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
তার কথায়, জীবনকে ভালোবেসে, কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে এবং মানুষকে সম্মান দিয়ে বেঁচে থাকাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
জীবনের প্রতি এমন গভীর ভালোবাসা আর স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















