০৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা

হাম পরবর্তী নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিতে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, দেরিতে হাসপাতালে আসাই বড় কারণ

বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে শিশুমৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিজে যতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি মারাত্মক হয়ে উঠছে পরবর্তী জটিলতা—বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বলছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে, ফলে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির চিত্র

চলতি প্রাদুর্ভাবে রাজধানীতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শিশুকে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষভাবে তিনটি বড় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে দায়ী নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপসিস বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দেরিতে হাসপাতালে আসা বড় ঝুঁকি

চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু মারা যাচ্ছে, আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর হার আরও বাড়ছে। অর্থাৎ, শিশুদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে, যখন চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

ঝুঁকিতে কম বয়সী শিশুরা

বিশেষ করে ১০ মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা নেওয়া ছিল।

জটিলতা বাড়াচ্ছে অপুষ্টি

আপনার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে? তার স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য আপনি যা খাওয়াবেন -  BBC News বাংলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হাম-পরবর্তী সংক্রমণ দ্রুত মারাত্মক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট না পাওয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে গুরুতর নিউমোনিয়া সামলানো কঠিন হওয়ায় অনেক রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্ট সামাল দিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও দেরিতে আসা রোগীদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত যোগ্য চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং সুস্থ হওয়ার পর ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা—নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা

হাম পরবর্তী নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিতে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, দেরিতে হাসপাতালে আসাই বড় কারণ

০৩:১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে শিশুমৃত্যু। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম নিজে যতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি মারাত্মক হয়ে উঠছে পরবর্তী জটিলতা—বিশেষ করে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য বলছে, আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে, ফলে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

পরিস্থিতির চিত্র

চলতি প্রাদুর্ভাবে রাজধানীতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজারের বেশি শিশুকে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিশেষভাবে তিনটি বড় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ মৃত্যুর পেছনে দায়ী নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে সেপসিস বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে হামের পরিস্থিতি 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দেরিতে হাসপাতালে আসা বড় ঝুঁকি

চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু মারা যাচ্ছে, আর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর হার আরও বাড়ছে। অর্থাৎ, শিশুদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছে, যখন চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

ঝুঁকিতে কম বয়সী শিশুরা

বিশেষ করে ১০ মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকা নেওয়া ছিল।

জটিলতা বাড়াচ্ছে অপুষ্টি

আপনার শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে? তার স্বাস্থ্য বৃদ্ধির জন্য আপনি যা খাওয়াবেন -  BBC News বাংলা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হাম-পরবর্তী সংক্রমণ দ্রুত মারাত্মক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট না পাওয়া এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে গুরুতর নিউমোনিয়া সামলানো কঠিন হওয়ায় অনেক রোগীকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্ট সামাল দিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও দেরিতে আসা রোগীদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত যোগ্য চিকিৎসকের কাছে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং সুস্থ হওয়ার পর ভিটামিন ‘এ’ দেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা—নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।