০৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
রংপুরে হাম-সদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৪৯ রোগী কুমিল্লায় হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, জেলায় মোট মৃত্যু ছয় হাম ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছেই স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে অপহরণ করে হত্যা সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ পার্লামেন্টে বসে রাষ্ট্রপতিকে অপমান কি রাষ্ট্র ধ্বংসের চেষ্টা নয়? ইহুদিবিরোধী মনোভাব ‘মহামারি’ হয়ে ছড়াচ্ছে, সামাল দিতে হিমশিম লন্ডন পুলিশ বন্ধুত্বের বড় গ্রুপের মিথ: প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কেন একান্ত সম্পর্কই টিকে থাকে কিউবার ভবিষ্যৎ কোন পথে: জ্বালানি সংকট, নিষেধাজ্ঞা আর অনিশ্চয়তার দোলাচল নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি

ধান ডুবে যেতে দেখে মাথা ঘুরে পড়ে মারা গেল কৃষক

৫০ হাজার টাকা ধার করে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কৃষক আহাদ মিয়া। আর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে জমি পানিতে ডুবে যায়। তিন দিন ধরে পানি না নামায় অসহায় হয়ে নিজের চোখের সামনে ফসল ডুবে যেতে দেখছিলেন তিনি। সেই দৃশ্য দেখতেই মাথা ঘুরে পড়ে যান আহাদ মিয়া, আর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

স্বপ্নের ফসল ডুবে গেল পানিতে
আহাদ মিয়ার মতো প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রতিটি মৌসুমই একেকটি বড় লড়াই। ধার করা টাকা দিয়ে চাষাবাদ করে তারা অপেক্ষা করেন ফসল ঘরে তোলার দিনের জন্য। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কাটার উপযোগী হয়ে ওঠা ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

তিন দিনেও নামেনি পানি
ধানের জমিতে পানি জমে থাকলেও দ্রুত সরে যাবে—এই আশায় ছিলেন আহাদ মিয়া। কিন্তু টানা তিন দিন পার হলেও পানি না নামায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন জমির দিকে তাকিয়ে নিজের ক্ষতির হিসাব কষছিলেন তিনি। কোনো উপায় না দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই কৃষক।

ঋণ আর অনিশ্চয়তার চাপ
ধান নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ফসলই হারায় না, হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও। ধার করা ৫০ হাজার টাকা কীভাবে শোধ হবে—এই চিন্তাও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে ফসল হারানোর আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন আহাদ মিয়া।

ঘটনায় এলাকায় শোক
নিজের চোখের সামনে ফসল ডুবে যেতে দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা যেমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন, তেমনি সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎও তাদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকের জীবনের কঠিন বাস্তবতা
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে এক মুহূর্তে একজন কৃষকের সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। সামান্য পুঁজি আর ধার করা টাকায় গড়ে ওঠা আশা খুব সহজেই ভেঙে পড়ে অতিবৃষ্টি বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে। ফলে কৃষকের জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হয়ে হতাশায় মাথা ঘুরে পড়ে কৃষক আহাদ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে শোকের সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে হাম-সদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৪৯ রোগী

ধান ডুবে যেতে দেখে মাথা ঘুরে পড়ে মারা গেল কৃষক

০৪:৫২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

৫০ হাজার টাকা ধার করে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কৃষক আহাদ মিয়া। আর কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে জমি পানিতে ডুবে যায়। তিন দিন ধরে পানি না নামায় অসহায় হয়ে নিজের চোখের সামনে ফসল ডুবে যেতে দেখছিলেন তিনি। সেই দৃশ্য দেখতেই মাথা ঘুরে পড়ে যান আহাদ মিয়া, আর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

স্বপ্নের ফসল ডুবে গেল পানিতে
আহাদ মিয়ার মতো প্রান্তিক কৃষকদের জন্য প্রতিটি মৌসুমই একেকটি বড় লড়াই। ধার করা টাকা দিয়ে চাষাবাদ করে তারা অপেক্ষা করেন ফসল ঘরে তোলার দিনের জন্য। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই অতিবৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই কাটার উপযোগী হয়ে ওঠা ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

তিন দিনেও নামেনি পানি
ধানের জমিতে পানি জমে থাকলেও দ্রুত সরে যাবে—এই আশায় ছিলেন আহাদ মিয়া। কিন্তু টানা তিন দিন পার হলেও পানি না নামায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন জমির দিকে তাকিয়ে নিজের ক্ষতির হিসাব কষছিলেন তিনি। কোনো উপায় না দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই কৃষক।

ঋণ আর অনিশ্চয়তার চাপ
ধান নষ্ট হয়ে গেলে শুধু ফসলই হারায় না, হারিয়ে যায় ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও। ধার করা ৫০ হাজার টাকা কীভাবে শোধ হবে—এই চিন্তাও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। একদিকে ঋণের চাপ, অন্যদিকে ফসল হারানোর আশঙ্কা—এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েন আহাদ মিয়া।

ঘটনায় এলাকায় শোক
নিজের চোখের সামনে ফসল ডুবে যেতে দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা যেমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছেন, তেমনি সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎও তাদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকের জীবনের কঠিন বাস্তবতা
এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে এক মুহূর্তে একজন কৃষকের সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিতে পারে। সামান্য পুঁজি আর ধার করা টাকায় গড়ে ওঠা আশা খুব সহজেই ভেঙে পড়ে অতিবৃষ্টি বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে। ফলে কৃষকের জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হয়ে হতাশায় মাথা ঘুরে পড়ে কৃষক আহাদ মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে শোকের সৃষ্টি করেছে।