০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
হাম ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছেই স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, বাধা দেওয়ায় নৈশপ্রহরীকে অপহরণ করে হত্যা সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিক প্রবেশে বাধা, মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ পার্লামেন্টে বসে রাষ্ট্রপতিকে অপমান কি রাষ্ট্র ধ্বংসের চেষ্টা নয়? ইহুদিবিরোধী মনোভাব ‘মহামারি’ হয়ে ছড়াচ্ছে, সামাল দিতে হিমশিম লন্ডন পুলিশ বন্ধুত্বের বড় গ্রুপের মিথ: প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে কেন একান্ত সম্পর্কই টিকে থাকে কিউবার ভবিষ্যৎ কোন পথে: জ্বালানি সংকট, নিষেধাজ্ঞা আর অনিশ্চয়তার দোলাচল নারীর ভোটে রেকর্ড ভাঙল পশ্চিমবঙ্গ, ইতিহাসে সর্বোচ্চ উপস্থিতি বাংলাদেশে এবার বর্ষাকালে বৃষ্টি কম হবে, বাড়বে তাপমাত্রা, এল নিনোর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা দেশকে আবার স্বাধীন করেছে- তারেক রহমান

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য, দেশকে সাংবিধানিক সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: জামায়াত

দেশকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সরাসরি দেওয়া রায়কে অস্বীকার করে সরকার এক গভীর সংকট তৈরি করছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে শনিবার আয়োজিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটমুখী দেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় নিয়ে ‘দ্বৈত অবস্থান’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’কে সামনে রেখে গণভোটের রায়কে আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অবস্থান। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রীরা বারবার সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটে জনগণের সরাসরি দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা নীরব রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব ও বিরোধ
সংবিধান সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি পুরো সংস্কার কাঠামোকে দুর্বল করছে। এসব আপত্তির মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান হিসেবে থাকা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা না মানা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন ও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার, বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কমিশন না চাওয়া এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

তিনি বলেন, এই ১০টি বিষয় বাদ দিলে পুরো সংস্কার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং সরকার এসব ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।

গণভোট বনাম সংসদের ক্ষমতা
গণভোটে প্রায় ৫ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সরাসরি দেওয়া সিদ্ধান্ত সংসদের প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতার চেয়ে শক্তিশালী। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, কিন্তু গণভোটে জনগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত দেয়—এটি অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা।

তিনি সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন এবং সংসদের ক্ষমতা কখনোই সীমাহীন নয়।

‘স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা’ ও সতর্কবার্তা
সরকারের বর্তমান অবস্থানকে তিনি স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায় উপেক্ষা করা গণতন্ত্র নয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশে সংঘাত, অস্থিতিশীলতা এমনকি রক্তপাতের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
গণভোটের রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার ঘোষণা দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ৫ কোটি মানুষের দেওয়া রায় উপেক্ষা করা হলে জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং আন্দোলনই হবে একমাত্র পথ।

তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, সময় থাকতে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ফিরে আসতে। অন্যথায় সম্ভাব্য সংকটের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন।

দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে জামায়াত নেতার অভিযোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
গণভোটের রায়

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ মৃত্যু, আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছেই

গণভোটের রায় অগ্রাহ্য, দেশকে সাংবিধানিক সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: জামায়াত

০৪:৫৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

দেশকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সরাসরি দেওয়া রায়কে অস্বীকার করে সরকার এক গভীর সংকট তৈরি করছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে শনিবার আয়োজিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটমুখী দেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটের রায় নিয়ে ‘দ্বৈত অবস্থান’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’কে সামনে রেখে গণভোটের রায়কে আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অবস্থান। তিনি বলেন, সরকার ও মন্ত্রীরা বারবার সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটে জনগণের সরাসরি দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা নীরব রয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রস্তাব ও বিরোধ
সংবিধান সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সাধারণভাবে ঐকমত্য থাকলেও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপির আপত্তি পুরো সংস্কার কাঠামোকে দুর্বল করছে। এসব আপত্তির মধ্যে রয়েছে—প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধান হিসেবে থাকা, উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা না মানা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন ও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা অস্বীকার, বিচারক নিয়োগে স্বাধীন কমিশন না চাওয়া এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রভাব কমানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

তিনি বলেন, এই ১০টি বিষয় বাদ দিলে পুরো সংস্কার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং সরকার এসব ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়।

গণভোট বনাম সংসদের ক্ষমতা
গণভোটে প্রায় ৫ কোটি মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সরাসরি দেওয়া সিদ্ধান্ত সংসদের প্রতিনিধিত্বমূলক ক্ষমতার চেয়ে শক্তিশালী। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, কিন্তু গণভোটে জনগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত দেয়—এটি অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা।

তিনি সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ আইন এবং সংসদের ক্ষমতা কখনোই সীমাহীন নয়।

‘স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা’ ও সতর্কবার্তা
সরকারের বর্তমান অবস্থানকে তিনি স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের রায় উপেক্ষা করা গণতন্ত্র নয়। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশে সংঘাত, অস্থিতিশীলতা এমনকি রক্তপাতের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
গণভোটের রায় সংসদে বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার ঘোষণা দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ৫ কোটি মানুষের দেওয়া রায় উপেক্ষা করা হলে জনগণের কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং আন্দোলনই হবে একমাত্র পথ।

তিনি সরকারকে আহ্বান জানান, সময় থাকতে জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ফিরে আসতে। অন্যথায় সম্ভাব্য সংকটের দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন।

দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট নিয়ে জামায়াত নেতার অভিযোগ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
গণভোটের রায়