১০:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে বিশাল ‘পাখা-আকৃতির’ ভূগর্ভস্থ কাঠামোর সন্ধান, বদলে যেতে পারে পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের ধারণা ই-রিকশা দূর থেকে বন্ধের অভিযোগ: গুগল-অ্যাপলকে আরও ৭ ব্যাটারি অ্যাপ সরাতে ভারতের নির্দেশ ঢাকার হামলায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করলেন বাংলাদেশের হাসিনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ধাক্কা সামলাতে এশিয়ার ভরসা আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি কেড়ে নেবে চাকরি, নাকি খুলবে নতুন সম্ভাবনা? সাদ্দাম হোসেনের ‘হলিউড স্বপ্ন’: যুদ্ধের মধ্যেই নির্মিত হয়েছিল ইরাকের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র পাঁচ দিনের শোকানুষ্ঠান শুরু: খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে বিশ্বনেতাদের সমাগম সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় পাসপোর্ট সেবা চালু অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোনালদোর গোল, স্পেনের দাপট, বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে মদরিচ: বিশ্বকাপে জমে উঠেছে শেষ ষোলোর লড়াই

এআই উন্মাদনায় ধাক্কা: চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু কম্পিউটিং শক্তির ঘাটতি দিন দিন তীব্র

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা এখন নতুন এক সংকটে পড়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যত দ্রুত এই খাতে এগোচ্ছে, তার তুলনায় প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং শক্তি ও অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে অনেক ধীর গতিতে। ফলে চাহিদা আর সরবরাহের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।

টোকেন ব্যবহারে প্রতিযোগিতা, কিন্তু সরবরাহ সীমিত

প্রযুক্তি খাতে এখন “টোকেন” ব্যবহারের এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো যেসব তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে, সেই টোকেন যত বেশি ব্যবহার করা যায়, সেটাকেই দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই টোকেন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। অনেক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের সেবা সীমিত করেছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, যাতে চাহিদা সামাল দেওয়া যায়।

The AI rush is hitting a bottleneck

অবকাঠামো বাড়াতে বিশাল বিনিয়োগ

এই সংকট মোকাবিলায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার ও সার্ভার সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শত শত বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা যায়। তবে এই বিনিয়োগের ফল পেতে সময় লাগবে, কারণ নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি এবং তা চালু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বাধা

ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বাধাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দেশে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসন বিদ্যুৎ ব্যবহার ও পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ফলে বহু প্রকল্প বিলম্বিত বা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নতুন অবকাঠামো তৈরি আরও ধীর হয়ে পড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন

চিপ সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে যে বিশেষ ধরনের চিপ প্রয়োজন, সেগুলোর সরবরাহও এখন চাহিদার তুলনায় কম। বিশেষ করে উন্নত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট ও উচ্চগতির মেমোরি চিপের বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কোম্পানি আগেভাগেই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বুক করে ফেলেছে, ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমে যাচ্ছে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা

সমস্যার মূল কারণগুলোর একটি হলো বিনিয়োগের ভারসাম্যহীনতা। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেখানে বিপুল অর্থ ঢালছে, সেখানে হার্ডওয়্যার নির্মাতারা তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ করছে। ফলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল একসঙ্গে এগোতে পারছে না। নতুন চিপ কারখানা তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে, যা এই সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি করে তুলছে।

The AI rush is hitting a bottleneck

ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটওয়্যার উন্নয়ন দ্রুত সম্ভব হলেও হার্ডওয়্যার ও অবকাঠামো তৈরি অনেক ধীর প্রক্রিয়া। তাই বর্তমান সংকট সহজে কাটবে না। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা আরও বাড়লে এই ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। ফলে বর্তমানের এই উন্মাদনা ভবিষ্যতে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীতে দুর্নীতির নতুন প্রজন্ম: যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যের মৃত্যু, ক্ষমতার ছায়ায় কর্মকর্তাদের বিলাসজীবন

এআই উন্মাদনায় ধাক্কা: চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু কম্পিউটিং শক্তির ঘাটতি দিন দিন তীব্র

১১:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা এখন নতুন এক সংকটে পড়েছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যত দ্রুত এই খাতে এগোচ্ছে, তার তুলনায় প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং শক্তি ও অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে অনেক ধীর গতিতে। ফলে চাহিদা আর সরবরাহের মধ্যে বড় ফাঁক তৈরি হচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও গভীর হতে পারে।

টোকেন ব্যবহারে প্রতিযোগিতা, কিন্তু সরবরাহ সীমিত

প্রযুক্তি খাতে এখন “টোকেন” ব্যবহারের এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো যেসব তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে, সেই টোকেন যত বেশি ব্যবহার করা যায়, সেটাকেই দক্ষতার মাপকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই টোকেন ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে। অনেক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তাদের সেবা সীমিত করেছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে, যাতে চাহিদা সামাল দেওয়া যায়।

The AI rush is hitting a bottleneck

অবকাঠামো বাড়াতে বিশাল বিনিয়োগ

এই সংকট মোকাবিলায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার ও সার্ভার সক্ষমতা বাড়াতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শত শত বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করা যায়। তবে এই বিনিয়োগের ফল পেতে সময় লাগবে, কারণ নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি এবং তা চালু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বাধা

ডেটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে এখন রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বাধাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক দেশে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসন বিদ্যুৎ ব্যবহার ও পরিবেশের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ফলে বহু প্রকল্প বিলম্বিত বা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে নতুন অবকাঠামো তৈরি আরও ধীর হয়ে পড়ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্বপ্ন

চিপ সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালাতে যে বিশেষ ধরনের চিপ প্রয়োজন, সেগুলোর সরবরাহও এখন চাহিদার তুলনায় কম। বিশেষ করে উন্নত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট ও উচ্চগতির মেমোরি চিপের বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কোম্পানি আগেভাগেই তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বুক করে ফেলেছে, ফলে নতুন ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমে যাচ্ছে।

সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারসাম্যহীনতা

সমস্যার মূল কারণগুলোর একটি হলো বিনিয়োগের ভারসাম্যহীনতা। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যেখানে বিপুল অর্থ ঢালছে, সেখানে হার্ডওয়্যার নির্মাতারা তুলনামূলকভাবে কম বিনিয়োগ করছে। ফলে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল একসঙ্গে এগোতে পারছে না। নতুন চিপ কারখানা তৈরি করতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে, যা এই সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি করে তুলছে।

The AI rush is hitting a bottleneck

ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটওয়্যার উন্নয়ন দ্রুত সম্ভব হলেও হার্ডওয়্যার ও অবকাঠামো তৈরি অনেক ধীর প্রক্রিয়া। তাই বর্তমান সংকট সহজে কাটবে না। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা আরও বাড়লে এই ঘাটতি আরও প্রকট হতে পারে। ফলে বর্তমানের এই উন্মাদনা ভবিষ্যতে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।