ফ্যাশনের চক্র ঘুরে আবারও ফিরে এসেছে পুরোনো দিনের একটি পরিচিত স্টাইল—সাদা ক্যানভাস জুতা। এক সময় টেনিস কোর্টে ব্যবহার হলেও এখন আর খেলাধুলার সঙ্গে এই জুতার তেমন সম্পর্ক নেই। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আবারও নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে গ্রীষ্ম ২০২৬-এ।
স্টাইলের দীর্ঘ যাত্রা
এই ধরনের জুতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। বিংশ শতকের শুরুতে এটি ছিল সাধারণ ক্রীড়া জুতা। ১৯৩০-এর দশকে মানুষ এগুলো ‘জিম শু’ হিসেবে ব্যবহার করত। পরে ১৯৭০-এর দশকে স্কেটবোর্ড সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে জুতাগুলোর ডিজাইনে পরিবর্তন আসে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যায় ১৯৮০-এর শেষ ও ১৯৯০-এর দশকে, যখন সাদা ক্যানভাস জুতা মিনিমালিস্ট ফ্যাশনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

সেই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের স্টাইলেও এই জুতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নীল জিন্স বা লেগিংসের সঙ্গে সাদা ক্যানভাস জুতার এই সহজ কিন্তু স্টাইলিশ সমন্বয় তখন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা আজও অনেকের কাছে নস্টালজিয়ার অংশ।
নব্বইয়ের সরলতায় নতুন আকর্ষণ
বর্তমান ফ্যাশনে আবারও সরলতা ও ক্লাসিক স্টাইলের দিকে ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। ভারী ও চওড়া স্নিকার্সের বদলে এখন অনেকেই হালকা, স্লিম ডিজাইনের জুতা পছন্দ করছেন। এই পরিবর্তনের ফলে সাদা ক্যানভাস জুতা আবারও আলোচনায় এসেছে।
ফ্যাশন দুনিয়ার সাম্প্রতিক প্রদর্শনীগুলোতেও এই ট্রেন্ড স্পষ্ট। নতুন কালেকশনগুলোতে সাদা ক্যানভাস জুতাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই স্টাইল সামনে আরও জনপ্রিয় হতে চলেছে।
পুরোনো স্মৃতি, নতুন ব্যাখ্যা
সাদা ক্যানভাস জুতার বিশেষত্ব হলো এর সহজ ও নির্ভার লুক। এতে হয়তো আধুনিক জুতার মতো অতিরিক্ত সাপোর্ট নেই, কিন্তু এর সরলতা ও আরামই এটিকে আলাদা করে তোলে। অনেকের কাছে এটি শৈশবের স্কুলজীবনের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে, যা এই ট্রেন্ডকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
ফ্যাশন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের জুতা বর্তমান সময়ের ব্যস্ত ও জটিল ট্রেন্ডের মধ্যে একটি স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন এনে দেয়। সহজ, পরিচিত এবং ব্যবহারিক—এই তিন বৈশিষ্ট্যই এটিকে আবার জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে।
গ্রীষ্ম ২০২৬-এর ফ্যাশন বার্তা
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাদা ক্যানভাস জুতা শুধু একটি ফ্যাশন আইটেম নয়, বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া স্টাইলের একটি প্রতীক। গ্রীষ্ম ২০২৬-এ এটি আবারও প্রমাণ করছে, ফ্যাশনে পুরোনো কখনোই পুরোপুরি হারিয়ে যায় না—বরং নতুন রূপে ফিরে আসে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















