১১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে অপ্রাপ্তি, খরচের ৭৯ শতাংশই নিজের পকেট থেকে: বিআইডিএসের উদ্বেগজনক চিত্র

বাংলাদেশে এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে, যার বড় কারণ বাড়তে থাকা নিজস্ব পকেট খরচ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় অপ্রাপ্তি: কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজের সব স্তরেই স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি রয়েছে, তবে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। প্রতি মাসে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুভব করেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সেবা পান না, যা মোট চাহিদার ৬৫ শতাংশের সমান।

গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তির হার ৬৮ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৫৯ শতাংশ। জেলা অনুযায়ী বৈষম্যও স্পষ্ট—নড়াইলে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত, বিপরীতে ফেনীতে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ ও বৈষম্য
গড়ে একটি বাংলাদেশি পরিবার প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। এই খরচের বড় অংশই যায় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সেবায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক হলেও বেসরকারি সেবা মূলত ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও ধনীরা মোট টাকার হিসাবে বেশি খরচ করেন, প্রকৃত বোঝা বহন করে দরিদ্র পরিবারগুলোই।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যব্যয় তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে ধনী পরিবারের জন্য এটি মাত্র ৫ শতাংশ। এই চিত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার অর্থায়নে বৈষম্যপূর্ণ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকির চক্র
নিজস্ব পকেট খরচের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় পরিবারকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ঠেলে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয়।

সমাধানের পথ কোথায়
গবেষণাটি বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক স্বাস্থ্যবিমার মতো ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে এবং দেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট—অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ একসঙ্গে বেড়ে চলেছে, যা দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ বেড়েছে, যেখানে ৭৯% খরচই ব্যক্তিগত—বিআইডিএস গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে অপ্রাপ্তি, খরচের ৭৯ শতাংশই নিজের পকেট থেকে: বিআইডিএসের উদ্বেগজনক চিত্র

০৬:০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশে এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে, যার বড় কারণ বাড়তে থাকা নিজস্ব পকেট খরচ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় অপ্রাপ্তি: কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজের সব স্তরেই স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি রয়েছে, তবে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। প্রতি মাসে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুভব করেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সেবা পান না, যা মোট চাহিদার ৬৫ শতাংশের সমান।

গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তির হার ৬৮ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৫৯ শতাংশ। জেলা অনুযায়ী বৈষম্যও স্পষ্ট—নড়াইলে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত, বিপরীতে ফেনীতে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ ও বৈষম্য
গড়ে একটি বাংলাদেশি পরিবার প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। এই খরচের বড় অংশই যায় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সেবায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক হলেও বেসরকারি সেবা মূলত ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও ধনীরা মোট টাকার হিসাবে বেশি খরচ করেন, প্রকৃত বোঝা বহন করে দরিদ্র পরিবারগুলোই।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যব্যয় তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে ধনী পরিবারের জন্য এটি মাত্র ৫ শতাংশ। এই চিত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার অর্থায়নে বৈষম্যপূর্ণ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকির চক্র
নিজস্ব পকেট খরচের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় পরিবারকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ঠেলে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয়।

সমাধানের পথ কোথায়
গবেষণাটি বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক স্বাস্থ্যবিমার মতো ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে এবং দেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট—অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ একসঙ্গে বেড়ে চলেছে, যা দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ বেড়েছে, যেখানে ৭৯% খরচই ব্যক্তিগত—বিআইডিএস গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য।