০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
চীনের শক্তিশালী উইন্ডমিল বিপ্লব: তেলের সংকটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কৌশলগত অগ্রযাত্রা ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেলে অস্বচ্ছতা, গোপন চুক্তির জাল কাটেনি ডিগ্রি নয়, অভিজ্ঞতার দৌড়: তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন বাস্তবতা জাপানে ভালুকের শহরমুখী যাত্রা: জলবায়ু পরিবর্তনের নীরব সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কবার্তা রোহিত-রিকেলটনের ঝড়ে মুম্বইয়ের দাপুটে জয়, প্লে-অফ আশায় নতুন আলো রাবিতে ১১ হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা দামি চিকিৎসা মানেই ভালো নয়: নতুন প্রযুক্তি বেছে নেওয়ার আগে সহজভাবে বুঝে নিন বাস্তবতা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে সোনালী সিকিউরিটিজের ট্রেক বাতিল, বিনিয়োগকারীদের সতর্কবার্তা বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় দাদি-নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু, বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি

স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে অপ্রাপ্তি, খরচের ৭৯ শতাংশই নিজের পকেট থেকে: বিআইডিএসের উদ্বেগজনক চিত্র

বাংলাদেশে এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে, যার বড় কারণ বাড়তে থাকা নিজস্ব পকেট খরচ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় অপ্রাপ্তি: কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজের সব স্তরেই স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি রয়েছে, তবে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। প্রতি মাসে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুভব করেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সেবা পান না, যা মোট চাহিদার ৬৫ শতাংশের সমান।

গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তির হার ৬৮ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৫৯ শতাংশ। জেলা অনুযায়ী বৈষম্যও স্পষ্ট—নড়াইলে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত, বিপরীতে ফেনীতে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ ও বৈষম্য
গড়ে একটি বাংলাদেশি পরিবার প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। এই খরচের বড় অংশই যায় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সেবায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক হলেও বেসরকারি সেবা মূলত ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও ধনীরা মোট টাকার হিসাবে বেশি খরচ করেন, প্রকৃত বোঝা বহন করে দরিদ্র পরিবারগুলোই।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যব্যয় তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে ধনী পরিবারের জন্য এটি মাত্র ৫ শতাংশ। এই চিত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার অর্থায়নে বৈষম্যপূর্ণ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকির চক্র
নিজস্ব পকেট খরচের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় পরিবারকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ঠেলে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয়।

সমাধানের পথ কোথায়
গবেষণাটি বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক স্বাস্থ্যবিমার মতো ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে এবং দেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট—অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ একসঙ্গে বেড়ে চলেছে, যা দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ বেড়েছে, যেখানে ৭৯% খরচই ব্যক্তিগত—বিআইডিএস গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের শক্তিশালী উইন্ডমিল বিপ্লব: তেলের সংকটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কৌশলগত অগ্রযাত্রা

স্বাস্থ্যসেবায় বাড়ছে অপ্রাপ্তি, খরচের ৭৯ শতাংশই নিজের পকেট থেকে: বিআইডিএসের উদ্বেগজনক চিত্র

০৬:০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বাংলাদেশে এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকছে, যার বড় কারণ বাড়তে থাকা নিজস্ব পকেট খরচ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশে স্বাস্থ্যসেবায় মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় অপ্রাপ্তি: কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজের সব স্তরেই স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি রয়েছে, তবে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। প্রতি মাসে প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন অনুভব করেন। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও সেবা পান না, যা মোট চাহিদার ৬৫ শতাংশের সমান।

গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তির হার ৬৮ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৫৯ শতাংশ। জেলা অনুযায়ী বৈষম্যও স্পষ্ট—নড়াইলে সর্বোচ্চ ৮১ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত, বিপরীতে ফেনীতে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ।

স্বাস্থ্যব্যয়ের চাপ ও বৈষম্য
গড়ে একটি বাংলাদেশি পরিবার প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করে, যা মোট ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। এই খরচের বড় অংশই যায় ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক সেবায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক হলেও বেসরকারি সেবা মূলত ধনী শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। যদিও ধনীরা মোট টাকার হিসাবে বেশি খরচ করেন, প্রকৃত বোঝা বহন করে দরিদ্র পরিবারগুলোই।

সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যব্যয় তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, যেখানে ধনী পরিবারের জন্য এটি মাত্র ৫ শতাংশ। এই চিত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার অর্থায়নে বৈষম্যপূর্ণ প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যঝুঁকির চক্র
নিজস্ব পকেট খরচের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অনেক সময় পরিবারকে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ঠেলে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও দারিদ্র্যের দিকে ধাবিত হয়।

সমাধানের পথ কোথায়
গবেষণাটি বলছে, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে স্বাস্থ্যখাতে অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে সামাজিক স্বাস্থ্যবিমার মতো ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে এবং দেশে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান চিত্রে স্পষ্ট—অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ একসঙ্গে বেড়ে চলেছে, যা দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে আরও গভীর সংকটে রূপ নিতে পারে।

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অপ্রাপ্তি ও ব্যয়ের চাপ বেড়েছে, যেখানে ৭৯% খরচই ব্যক্তিগত—বিআইডিএস গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য।