রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি আবাসিক হলে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কমিটিগুলো প্রকাশ করা হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ঘোষণা ও প্রেক্ষাপট
সোমবার রাতে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে ১১টি হলের আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। এসব কমিটিতে বিভিন্ন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে একাধিক শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা সরাসরি ক্যাম্পাসে কোনো কার্যক্রমের ইঙ্গিত না দিলেও অনলাইনেই তা ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সরে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে একই বছরের অক্টোবর মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া
নিষিদ্ধ অবস্থায় কমিটি ঘোষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। ছাত্রদল মনে করছে, সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব কার্যত অকার্যকর এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের কোনো সংযোগ নেই। ফলে এই কমিটি ঘোষণাকে তারা বাস্তবতাবিবর্জিত ও গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি বেআইনি উদ্যোগ এবং এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, যাদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদের অনেকেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
বাম ধারার ছাত্রসংগঠনগুলোর জোটও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, নিষিদ্ধ অবস্থায় এমন কার্যক্রম চালানো দুঃসাহসিক এবং অতীতের সহিংস ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনকে ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস পরিস্থিতি
এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে সরাসরি কোনো সহিংসতা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সার্বিকভাবে, নিষিদ্ধ অবস্থায় কমিটি ঘোষণা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অবস্থান স্পষ্ট হলেও পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।
রাবির ১১ হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের কড়া অবস্থান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















